দেহে পানির পরিমাণ ঠিক রাখে যেসব ফল

গরমে অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীরে পানিশূন্যতা বোধ হতে পারে। এ সময় শরীর হাইড্রেটেড রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান খুবই প্রয়োজন। এর পাশাপাশি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এমন সব ফল রাখা উচিত যা পানিশূন্যতা রোধে করে দেহের পানির পরিমাণ ঠিক রাখে। গ্রীষ্মকালে নানা ধরনের মৌসুমি ফল পাওয়া যায়। এসব ফল শরীরের জন্য খুবই উপকারী। বিশেষ করে যে ফলগুলিতে পানির পরিমাণ বেশি থাকে সেগুলো পানিশূন্যতার সমস্যা থেকে রক্ষা করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। মৌসুমী ফলগুলি ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, যার মধ্যে পানি, ইলেক্ট্রোলাইটস, ফাইবার এবং অল্প পরিমাণে প্রাকৃতিক চিনি থাকে। যেমন-
তরমুজ : তরমুজে ৯২ শতাংশ পানি থাকে। এতে লাইকোপিন নামক এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। গরমে এটি তাপের চাপ কমাতে কাজ করে। এই ফলটি শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতেও সহায়তা করে। সকালে মাঝখানে বা পোস্ট ওয়ার্কআউটের পর এই ফলটি খেতে পারেন। দিনে ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম তরমুজ খেলে শরীরে পানির ঘাটতি অনেকটা পূরণ হয়।
তালশাঁস: তালশাঁসে ৯০ শতাংশ পানি থাকে। এই ফলে থাকা নানা উপাদান শরীর থেকে তাপ দূর করতে কাজ করে এবং প্রাকৃতিকভাবে শীতলতা বজায় রাখে। বিকেলে এই ফলের এক বা দুই টুকরো খেতে পারেন।
ফুটি বা বাঙ্গি : এটি গ্রীষ্মকালীন একটি ফল। অন্যান্য ফলের মতো, এতেও ৯০ শতাংশ পানি থাকে। এটি একটি ঠান্ডা ফল যা শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। হজমের জন্যও হালকা এই ফল। বিকেলে এই ফলটি খাওয়াই ভালো।
পীচ ফল : পীচে ৮৯ শতাংশ পানি থাকে, এটি অন্ত্রের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে এবং হাইড্রেশনে সহায়তা করে। এই ফলটি সহজেই হজম হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা এক থেকে দুটি ছোট আকারের পীচ খাওয়ার পরামর্শ দেন। সকালের মাঝামাঝি বা সন্ধ্যায় এটি খেতে পারেন।
কমলালেবু: কমলা সারা বছরই মেলে। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ এই ফলে ৮৬ থেকে ৮৭ শতাংশ পানি থাকে। এটিতে প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম রয়েছে, তাই এই ইলেক্ট্রোলাইটগুলি ভারসাম্য বজায় রাখতেও সহায়ক। এগুলো ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে। সকালে দু-একটি কমলালেবু খেতে পারেন।
তাই দেহের পানি, লবণ ও গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক রাখতে মৌসুমী এসব ফল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আরেকটি বিষয় লক্ষ্য রাখা জরুরি, ফ্রুট জুস থেকে টুকরো করা ফল চিবিয়ে খাওয়া বেশি ভালো; এতে ফাইবার সঠিকভাবে দেহে পরিপাক হয়।



