গরমে কাঁচা আমের শরবত

সারাদেশে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ চলছে। সে কারণে মনের তৃপ্তি মেটাতে নানা ধরনের পানীয় প্রশান্তি এনে দেয়। যখনই পিপাসা পাচ্ছে, তখনই দোকান থেকে কোমল পানীয় কিনে খাচ্ছেন। এতে মনে প্রশান্তি এলেও শরীরের মারাত্মক ক্ষতি করছে। সে জন্য ফলের রস খাওয়া উচিত। আর তা হতে পারে কাঁচা আমের শরবত।
কাঁচা আম ক্যারোটিন ও ভিটামিনে সমৃদ্ধ। তাই গরম থেকে মুক্তি পেতে এবং মানসিক দুশ্চিন্তা এড়াতে বেছে নিতে পারেন কাঁচা আমের শরবত। শিশু থেকে বয়স্ক সবাই এ শরবত পান করতে পারেন। এতে পানিশূন্যতা, শরীরিক অবসাদ দূর হবে।
কাঁচা আম ভিটামিন সি–তে ভরপুর। ভিটামিন সি সর্দি লাগা, অতিমাত্রায় হাঁচি, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, জ্বর জ্বর প্রভৃতি ঠান্ডা গরমজনিত শরীর খারাপ লাগার বিরুদ্ধে কাজ করে। ত্বক, চুলের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি, নখের ভঙ্গুরতা রোধ করে ভিটামিন সি।
কাঁচা আমে আছে পলিফেনল নামের একধরনের খাদ্য উপাদান, যা ক্ষত ও কাটাছেঁড়া শুকাতে ভূমিকা রাখে। ক্যানসারের কোষগুলোকে দুর্বল করে। কাঁচা আমের মধ্যে জিংকের উপস্থিতিও দেখা যায়। জিংক রোগ প্রতিরোধশক্তি বৃদ্ধি ও ক্ষুধামান্দ্য কমাতে সাহায্য করে। কাঁচা আমের মধ্যে ম্যাংগিফেরিন নামের গুরুত্বপূর্ণ একধরনের খাদ্য উপাদান রয়েছে। ম্যাংগিফেরিন একধরনের অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, যা আমাদের রক্তের চর্বি বা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়।
যাদের লিভারে চর্বি জমেছে, তাদের জন্য টক ফল, বিশেষ করে, কাঁচা আম ভীষণ উপকারী। রক্তনালিকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে কাঁচা আম। পরিণামে হৃৎপিণ্ড সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারে।
কাঁচা আমে রয়েছে আঁশজাতীয় উপাদান, যা দীর্ঘ সময় পেট ভরে রাখতে সাহায্য করে। দূর করে বদহজম। কাঁচা আমের রস আমাদের রক্তে খাবার হজমে সাহায্য করে, এই ধরনের কিছু এনজাইমের মাত্রা বাড়িয়ে তোলে। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। কাঁচা আমের মধ্যে আয়রন ও ক্যালসিয়াম আছে, যা গর্ভবর্তী নারীসহ সব বয়সের মানুষের জন্য ভীষণ উপকারী।
তবে জেনে নেওয়া যাক কাঁচা আমের শরবতের রেসিপি –
যা লাগবে—
কাঁচা আম ২টি, গুড় ২ টেবিল চামচ, ভাজা জিরা গুঁড়া ১ চা চামচ, গোলমরিচ গুঁড়া ১/২ চা চামচ, বিট লবণ এক চিমটি, বরফ কিউব পরিমাণমতো এবং পুদিনা পাতা ৩-৪টি।
প্রণালি—
প্রথমে চুলায় অল্প আঁচে কাঁচা আম পুড়িয়ে নিন। আমের খোসা কালো হয়ে গেলে নামিয়ে নিন। এবার ঠান্ডা করে নিন। এরপর যখন আম পুরোপুরি ঠান্ডা হয়ে যাবে, তখন আম খোসা ছাড়িয়ে ফেলুন। হাত দিয়ে চটকে বীজটিকে আলাদা করুন। এরপর আম ব্লেন্ডারে নিয়ে তার সঙ্গে জিরা গুঁড়া, বিট লবণ, গোলমরিচ গুঁড়া এবং লবণ দিন। গুড় যোগ করুন। সব কিছু একসঙ্গে ব্লেন্ড করুন। এরপর ব্লেন্ড করা মিশ্রণটি ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করুন। ঠান্ডা হলে গ্লাসে দুই টেবিল চামচ পাল্প নিয়ে ঠান্ডা পানি যোগ করুন। কিছু বরফের কিউব দিন। ওপরে জিরা গুঁড়া ছিটিয়ে, পুদিনাপাতা দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।



