বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
জীবনযাপন

প্রকৃতির থেরাপি: বৃষ্টিতে ভিজে মুছে যাক ক্লান্তি

51156b6014dd6f23a6461f4564316887-631b0945c63df

‘এসো নীপবনে ছায়াবীথিতলে, এসো করো স্নান নবধারা জলে।’

না হোক নীপবনে, তবে বর্ষণমুখর এমনও দিনে বৃষ্টি দেখলে কার না ভিজতে মন চায়। গরমে স্বস্তির আরেক নাম মুষলধারে ঝরে পড়া বৃষ্টিতে ভেজা। বন্ধুরা মিলে হইচই করে মাঠে বা রাস্তায় ভেজার মজা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। রিকশায় বসে প্রিয় মানুষটির হাত ধরে বৃষ্টিতে ভিজতে কার না ভালো লাগে! তখন মনও ভিজে যায় ভালোবাসার অঝোর ধারায়। আবার একা একা বৃষ্টিতে ভিজতে গিয়েও আনমনে ভর করে একরাশ ভালো লাগা। কিন্তু ভালো লাগার পাশাপাশি বৃষ্টিতে ভিজলে অনেক উপকারও পাওয়া যায়।

বৃষ্টির পানি প্রাকৃতিকভাবে চুলের ক্লিনজার হিসেবে কাজ করে। বৃষ্টির পানিতে প্রাকৃতিক অ্যালকালাইন থাকে, যা চুলের গোড়া থেকে ময়লা ও খুশকি পরিষ্কার করে। নিয়মিত বৃষ্টির পানিতে গোসল রুক্ষ চুলকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল করে, যার ফলে চুল চকচকে দেখায়। তবে বৃষ্টিতে ভেজার পর আবার ভালোমতো শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে।

বৃষ্টির পানির খরতা নেই বললেই চলে। আর এই পানি অ্যালকালাইন পিএইচসমৃদ্ধ, যা আপনার মেজাজ ফুরফুরে করে তুলতে সক্ষম। বৃষ্টির পানিতে বিভিন্ন অণুজীব থাকে, যেগুলো বিপাক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভিটামিন বি১২ তৈরি করে। তাই আপনার যদি এই ভিটামিনের ঘাটতি থাকে, তবে বৃষ্টি হলে নিয়ম করে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ভিজতে পারেন। তবে ভেজার পর তাৎক্ষণিকভাবে অবশ্যই সাবান দিয়ে ভালো করে গোসল করে নিতে হবে।

গুমোট গরমে অনেকেই চর্মরোগে ভুগে থাকেন। ত্বকের বিভিন্ন ফুসকুড়ি ও চুলকানির সমাধান আছে বৃষ্টির শীতল পানিতে। বৃষ্টিতে ভিজলে বা নিয়মিত গোসল করলে চুলকানি ও ত্বকের খসখসে ভাব চলে যায়। এটা প্রমাণিত যে বৃষ্টির পানি আপনার ত্বকের তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখে এবং গ্রীষ্মের ফুসকুড়ি থেকে মুক্তি দেয়।

বৃষ্টিতে ভিজলে শরীর থেকে ‘হ্যাপিনেস হরমোন’, অর্থাৎ এন্ডোরফিন ও সেরাটোনিন নামক নিঃসৃত হয়। এ জন্য বৃষ্টিতে ভিজলে দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তবে খেয়াল রাখতে হবে, ঋতুর প্রথম বৃষ্টির পানি গায়ে না লাগানোর। কারণ, ঋতুর প্রথম বৃষ্টির পানিতে বিভিন্ন ক্ষতিকর পদার্থ মিশে থাকে। প্রথম বৃষ্টি এড়িয়ে গিয়ে পরবর্তী বৃষ্টিতে আপনি নিরাপদে ভিজতে পারেন। তো আর দেরি কিসের, সুযোগ পেলেই নেমে পড়ুন ঝুমবৃষ্টিতে ভিজতে!

তবে খেয়াল রাখুন-

১. হালকা বৃষ্টিতে পাঁচ থেকে পনেরো মিনিট ভেজা উপকারি৷ তবে যাদের শরীর দুর্বল, ঠান্ডা লাগার ধাত আছে, তারা পাঁচ মিনিটের বেশি ভিজবেন না। মুষলধারে বৃষ্টিতে না ভেজা ভালো।

২. ভেজার পর অবশ্যই মাথা মুছে শুকনো কাপড় পরে নিতে হবে।

৩. দূষিত এলাকার বৃষ্টিতে ভিজবেন না৷

৪. বজ্রপাত বা ঝড়ের সময় ভিজবেন না।

৫. শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তির জন্য বৃষ্টিতে ভেজা ঝুঁকিপূর্ণ।

Advertisements