দারুচিনি-পানি খেলে কি সত্যিই ওজন কমে?

রোজ সকালে দারুচিনির পানি খেলেন, অথচ মাসের শেষে কোনও ফলই পেলেন না! খাওয়ার সময় বেশ কিছু ভুল এড়িয়ে না চললে দারুচিনির সমস্ত পুষ্টিগুণ শরীরে পৌঁছোয় না। তাই স্বাস্থ্যের কথা ভেবে দারুচিনি খাওয়ার আগে কিছু জরুরি বিষয় মাথায় রেখে চলতে হবে।
সঠিক প্রজাতির দারুচিনি ব্যবহার করতে হবে। বাজারে মূলত দু’ধরনের দারুচিনি কিনতে পাওয়া যায়, সেলন আর ক্যাসিয়া। সেলন প্রজাতির দারুচিনির মান বেশি ভাল হয়। দারুচিনিতে কমারিন নামক একটি যৌগ পাওয়া যায়, যা বেশি মাত্রায় শরীরে গেলে লিভারের ক্ষতি হতে পারে। ক্যাসিয়াতে কমারিনের মাত্রা বেশি থাকে। সেলন দারুচিনির স্বাদ মিষ্টি মিষ্টি হয়। এর রং সাধারণত হালকা বাদামি হয়ে থাকে। অন্য দিকে, কাসিয়া দারুচিনির স্বাদ একটু ঝাল হয়, এর রংও গাঢ় হয়। সেলনের দাম কাসিয়ার তুলনায় অনেকটাই বেশি। সেলন প্রজাতির দারুচিনি বেশি স্বাস্থ্যকর।
খুব বেশি রান্না করলে দারুচিনির গুণ নষ্ট হয়ে যায়। রান্নাতেও তাই একেবারে শেষে এই মশলা ব্যবহার করলে তবেই শরীরে এর পুষ্টিগুণ পৌঁছোবে। আর দারুচিনির জল বা চা বানানোর সময়ে খুব বেশি ফোটানোর প্রয়োজন নেই। ঈষদুষ্ণ জলে ভিজিয়ে রাখলেই কাজ হবে।
বাজার থেকে দারুচিনি কেনার সময় গোটা কিনুন। দারুচিনির গুঁড়ো ব্যবহার না করাই ভাল। বাড়িতে দারুচিনি গুঁড়ো করার সময়েও অনেকটা একসঙ্গে করবেন না। দারুচিনির গুঁড়ো বেশি দিন ফেলে রাখলে তার গুণ নষ্ট হয়ে যায়।
দারুচিনির মাত্রার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। সারা দিনে ১-২ চা চামচের বেশি না খাওয়াই ভাল। খাওয়ার আধ ঘণ্টা আগে দারুচিনির জল খাওয়া ভাল। এতে রক্তের শর্করার মান নিয়ন্ত্রণে থাকে, অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতাও কমে।
তবে খেয়াল রাখুন, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি, শিশু, অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন—এমন মায়ের দারুচিনি-পানি গ্রহণ করা উচিত নয়।
অ্যান্টিবায়োটিক-জাতীয় ওষুধ, হৃৎপিণ্ডের কিছু রোগে ব্যবহৃত ওষুধ এবং অন্যান্য কিছু ওষুধের সঙ্গে দারুচিনি-পানি গ্রহণ করলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে শরীরে। তাই কোনো ওষুধ চলমান অবস্থায় দারুচিনি-পানি গ্রহণ করতে চাইলে আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
যেকোনো সুস্থ ব্যক্তির জন্যই এ ধরনের পানীয় রোজকার খাদ্যতালিকায় যোগ করার আগে একজন পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।



