বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ২০ মে, ২০২৬
জীবনযাপন

ডিপ্রেশন কোন সাধারণ মন খারাপ নয়

depression

আমাদের মাঝেমধ্যেই মন খারাপ হয় কিন্তু সেটা ডিপ্রেশন নাও হতে পারে। মন খারাপ হওয়া খুবই স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু ডিপ্রেশন বা মানসিক অবসাদ কোনো সাধারণ মন খারাপ নয়, এটি একটি বাস্তব মানসিক স্বাস্থ্যজনিত অসুখ। যেমন শরীর অসুস্থ হতে পারে, তেমনি মনও অসুস্থ হতে পারে। অথচ আমাদের সমাজে এখনো বিষয়টি অনেক সময় অবহেলার চোখে দেখা হয়। সময় গেলে ঠিক হয়ে যাবে, এই ধারণা অনেককে প্রয়োজনীয় সহায়তা নেওয়া থেকে দূরে রাখে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক অবসাদের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করে। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, সম্পর্কের টানাপোড়েন, জীবনে ব্যর্থতা, একাকিত্ব কিংবা হরমোনজনিত পরিবর্তন সবকিছুই এ সমস্যার জন্ম দিতে পারে। অনেক সময় দৈনন্দিন আচরণেই এর লক্ষণগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা শুরুতেই চিহ্নিত করা জরুরি।সবসময় মন খারাপ থাকা ডিপ্রেশনের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ। আগে যেসব কাজ আনন্দ দিত, সেগুলোর প্রতিও আগ্রহ হারিয়ে যায়। মনে এক ধরনের শূন্যতা বা দুঃখবোধ স্থায়ী হয়ে বসে। পাশাপাশি, অল্পতেই রাগ বা বিরক্তি বেড়ে যেতে পারে। ছোটখাটো বিষয়েও অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখানো বা মেজাজ নিয়ন্ত্রণে না রাখতে পারা এই অবস্থারই ইঙ্গিত দেয়।

অনেকেই আবার অস্বাভাবিকভাবে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। সামান্য ঘটনায় কষ্ট পাওয়া, হতাশা বা নিজেকে মূল্যহীন মনে হওয়া এসবও ডিপ্রেশনের লক্ষণ। এর সঙ্গে যুক্ত হয় অকারণ ক্লান্তি। কোনো কাজ না করেও সারাক্ষণ অবসন্ন লাগা, শরীর ভারী মনে হওয়া বা শক্তির অভাব এসব লক্ষণ শুধু শারীরিক নয়, মানসিক অবসাদেরও প্রতিফলন।দৈনন্দিন কাজের প্রতি অনীহা এবং আগ্রহ হারানোও বড় একটি সংকেত। পড়াশোনা, অফিস বা ঘরের দায়িত্ব কিছুই করতে ইচ্ছে না করা, নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া বা বারবার কাজ ফেলে রাখা এসব আচরণকে হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়। পাশাপাশি খাওয়ার অভ্যাসেও পরিবর্তন দেখা দিতে পারে কেউ খাওয়া কমিয়ে দেন, আবার কেউ অস্বাভাবিক বেশি খেতে শুরু করেন।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, যদি এসব লক্ষণ দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে থাকে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, কাজ বা সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলে, তাহলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলা মানসিক সুস্থতার প্রথম ধাপ হতে পারে।মানসিক অবসাদ লুকিয়ে রাখার বিষয় নয়। সঠিক চিকিৎসা, কাউন্সেলিং, জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন এবং প্রয়োজনে ওষুধের মাধ্যমে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে সাহায্য চাইতে দ্বিধা না করা।

ডিপ্রেশনপানিশূন্যতামন খারাপমানসিক অবসাদ