বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬
খাবার-দাবার

গরমের সুপারফুড টক দই

yogurt

প্রচণ্ড গরমে নাজেহাল অবস্থা? এক গ্লাস টক দইয়ের লাচ্ছি নিমিষেই দূর করতে পারে গরমের সব ক্লান্তি। প্রতিদিন খানিকটা টক দই খেলে দূরে থাকতে পারবেন অনেক রোগ থেকেও। টক দইয়ে থাকা উপকারি ব্যাকটেরিয়া (যেমন ল্যাকটোবেকিউলাস) গরমে মরে যেতে পারে। এই ব্যাকটেরিয়াগুলোই মূলত হজমে সাহায্য করে এবং দইকে স্বাস্থ্যকর করে তোলে।

পুষ্টির উৎস: টক দই হচ্ছে প্রোবায়োটিক খাবার। শরীর সুস্থ রাখার জন্য এ দইয়ের বিকল্প নেই। এতে প্রোটিন, ভিটামিন বি৬, ভিটামিন বি১২, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, রিবোফ্লাবিন, ফসফরাস, জিঙ্ক, সেলেনিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে। আর সবগুলো উপাদানই শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে থাকে।

হজমে সাহায্য করে : তাপ বাড়ার সাথে সাথে পরিপাকতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে, এর ফলে হজমজনিত নানা সমস্যা দেখা দেয়। টক দই সেক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে। দইয়ে থাকা স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়া হজমশক্তি উন্নত করে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। আপনি যদি বদহজম বা অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভোগেন, তাহলে দই হতে পারে সঠিক সমাধান। এটি বুক জ্বালাপোড়া এবং অ্যাসিডিটি কমাতেও সাহায্য করে। এছাড়াও,রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ঠান্ডা-কাশিসহ নানা ধরনের সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।

ক্রনিক অসুখের ঝুঁকি হ্রাস করে: টক দইয়ে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান শারীরিক বিভিন্ন প্রদাহ কমায়। নিয়মিত টক দই খাওয়ার ফলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানো এবং পেটের যেকোনো সমস্যা সহজেই দূর হয়।

Advertisements

রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে: রক্তচাপের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে টক দইয়ের জুড়ি মেলা ভার। উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য টক দই মহৌষধি। চিকিৎসকেরাও টক দই খেতে বলে থাকেন। রক্তচাপের মাত্রা কমাতে টক দই সত্যিই ওষুধের মতো কাজ করে।

ত্বক এবং চুলের জন্য ভাল : টক দইয়ের মধ্যে রয়েছে ল্যাক্টিক অ্যাসিড। যা ত্বকে প্রাকৃতিক ‘এক্সফোলয়েটর’ হিসাবে কাজ করে। শুধু তা-ই নয়, টক দইয়ের মধ্যে থাকা প্রোটিন এবং ভিটামিন মাথার ত্বকেও পুষ্টি জোগায়। চুলের জেল্লা বজায় রাখতেও সাহায্য করে।

উদ্বেগ এবং মানসিক চাপ কমায়: ছোট ছোট বিষয় নিয়েও দুশ্চিন্তা করা মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। আর এই বদভ্যাসের ফলে নানা ধরনের রোগ বাসা বাঁধে শরীরে। সুস্থ থাকতে চাইলে মানসিক চাপ কমাতেই হবে। সেক্ষেত্রে দই হতে পারে দারুন বিকল্প। আর এই কারণেই বিশেষজ্ঞরা দুশ্চিন্তা এবং উৎকণ্ঠায় ভুক্তভোগীদের নিয়মিত দই খাওয়ার পরামর্শ দেন।

বিকেলে টক দই খাবেন, না খাবেন না: অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়া বাড়াতে সহযোগিতা করে টক দই। এতে হিস্টামিন নামক উপাদান রয়েছে, যা শরীরে মিউকাস গঠন করে। এ জন্য বিকেলের পর টক দই খেলে সর্দি-কাশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ঠান্ডার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। পুষ্টিবিদের মতে, টক দিইয়ে অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি থাকে। এ জন্য বিকেলের পর টক দই খেলে হজম করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এ সময় পরিপাকতন্ত্রের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। আবার গাঁটের ব্যথা বৃদ্ধিসহ শ্বাসকষ্টও দেখা দিতে পারে।

Advertisements
গরমটক দইসুপারফুড