বাল্যবিবাহের দায়ে কী শাস্তি হতে পারে লুবাবা ও তার স্বামীর?

বছর খানেক আগে শোবিজ ছাড়ার ঘোষণা দেন আলোচিত ও সমালোচিত শিশুশিল্পী সিমরিন লুবাবা। সে সময় এ তারকা জানিয়েছিলেন, তাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যাবে না। তিনি শোবিজের কাজ ছেড়ে ধর্মীয় জীবনধারার দিকেই তিনি মনোনিবেশ করতে চান।
তবে সবসময়ই সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব রয়েছেন লুবাবা। সেখানে পর্দা প্রথা মেনে সক্রিয় তিনি। গেল ২৮ মার্চ লুবাবার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে জানা যায়, তিনি ওমরার করতে সৌদি আরবের মদিনা থেকে মক্কা নগরীতে যাচ্ছেন। যাত্রাপথের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। এরপর নিজের নতুন জীবনের একটি ছবি শেয়ার করে এই সাবেক তারকা ক্যাপশনে লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। দুইটি আত্মা, এক কিবলা। দুনিয়া এবং আখিরাতের জন্য। আল্লাহ আমাকে একজন দ্বীন শেখার সঙ্গী উপহার দিয়েছেন।’ তবে বিয়ে এবং জীবনসঙ্গীর কথা জানালেও তার পরিচয় গোপন রেখেছেন তিনি। প্রকাশিত ছবিতে দম্পতির কারো চেহারা স্পষ্ট করা হয়নি। ফলে লুবাবার জীবনসঙ্গীর পরিচয় নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে বেশ কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

তবে ব্যাপার হচ্ছে, মাত্র ১৫ বছর বয়সে বিয়ের খবর সামনে আসার পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে— এটি আইনত বৈধ কি না। বাংলাদেশে প্রচলিত আইনে কন্যার ন্যূনতম বিবাহযোগ্য বয়স ১৮ বছর এবং পুরুষের ক্ষেত্রে ২১ বছর। এ বিষয়ে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ (সংশোধিত) অনুযায়ী, কোনো পক্ষ অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে সেই বিবাহকে বাল্যবিবাহ হিসেবে গণ্য করা হয়।
সংবাদপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে লুবাবা চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। এ ছাড়া ২০২৩ সালেও স্কুলছাত্রী ছিলেন লুবাবা। তথ্য ধরে গণনা করলেবাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বিয়ের বয়স হয়নি লুবাবার।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আজমীর সুমী গণমাধ্যমে বলেন, ‘কন্যার বয়স ১৮-এর নিচে হলে কাজি সেই বিয়ে নিবন্ধন করতে পারেন না। আর রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কোনো বিয়ে আইনত বৈধ নয়। এছাড়া, বয়স গোপন করে বিয়ে হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।’ তিনি আরো জানান, বিদেশে গিয়ে কোর্ট স্ট্যাম্পে বিয়ে করলেও সেটি বাংলাদেশের আইনে বৈধ বিবাহ হিসেবে স্বীকৃত নয়; বরং তা ‘লিভ টুগেদার’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
আইনের শাস্তি কী ?
আইন অনুযায়ী, বাল্যবিবাহ সম্পাদন বা অংশগ্রহণ করলে (প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে) সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড বা ১ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। অর্থাৎ লুবাবার স্বামী প্রাপ্তবয়স্ক হলে তার ক্ষেত্রে এই শাস্তি প্রযোজ্য হতে পারে।
অপ্রাপ্ত বয়স্কের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ মাসের আটকাদেশ বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অপ্রাপ্ত বয়স্ককে শাস্তি না দেওয়ার বিধানও রয়েছে।
আর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। এছাড়া মিথ্যা অভিযোগ করলে সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদণ্ড বা ৩০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ড হতে পারে।
সব মিলিয়ে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সিমরিন লুবাবার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ মাসের আটক বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে, আর তার স্বামী প্রাপ্তবয়স্ক হলে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানার মুখোমুখি হতে পারেন।



