বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
বিবিধ

ফান্ড সংকটে বন্ধ রাজধানীর ট্রাফিক সহায়ক কার্যক্রম, বিপাকে শতাধিক শিক্ষার্থী

Fund

রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করা শিক্ষার্থীদের খণ্ডকালীন নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। অর্থসংকটের কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এই সেবা স্থগিত করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ফলে হঠাৎ করেই কাজ হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের আট শতাধিক শিক্ষার্থী।

একই সঙ্গে রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণেও এর প্রভাব পড়ছে।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকার ও ডিএমপি যৌথভাবে শিক্ষার্থীদের ট্রাফিক সহায়ক হিসেবে নিয়োগ দেয়। মূল উদ্দেশ্য ছিল ট্রাফিক পুলিশের চাপ কমানো এবং শিক্ষার্থীদের জন্য খণ্ডকালীন আয়ের সুযোগ তৈরি করা।

সর্বশেষ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী রাজধানীর আটটি ট্রাফিক বিভাগে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তারা প্রতিদিন চার ঘণ্টা কাজ করে দৈনিক ৫০০ টাকা ভাতা পেতেন।

তবে চুক্তির মেয়াদ ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার পর নতুন করে তা নবায়ন করা হয়নি।

ডিএমপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে আবেদন করলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। ফলে কার্যক্রমটি চালু থাকবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

হঠাৎ কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা ও ক্ষোভ। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, আগাম কোনো নোটিশ না দেওয়ায় তারা নতুন কাজের সুযোগ খুঁজে নেওয়ার সময় পাননি।
এদিকে, ট্রাফিক সহায়তাকারীরা না থাকায় রাজধানীর বিভিন্ন ব্যস্ত সড়কে যানজট বেড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও পথচারী নিয়ন্ত্রণে তাদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

তেজগাঁও এলাকার এক দোকানদার জানান, আগে সহায়তাকারীরা দ্রুত জটলা সরিয়ে দিতেন, এখন পরিস্থিতি আবার আগের মতোই জটিল হয়ে উঠছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘ফান্ডের অভাবে আপাতত শিক্ষার্থীদের নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। আমরা মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি জানিয়েছি এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।’

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়েছিল।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কয়েকজন সহায়তাকারীর বিরুদ্ধে সিএনজিচালকসহ অন্যান্যদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

ডিএমপির তদন্তে কিছু অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া গেছে বলে জানা যায়। এছাড়া তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সরকার পুরো কার্যক্রমটির প্রয়োজনীয়তা পুনর্মূল্যায়ন করছে।

সব মিলিয়ে ফান্ড সংকট, চুক্তি নবায়নে বিলম্ব এবং বিভিন্ন অভিযোগের কারণে রাজধানীর ট্রাফিক সহায়ক কার্যক্রম এখন অনিশ্চয়তার মুখে। এতে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের আয়ের পথ বন্ধ হয়েছে, অন্যদিকে শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও নতুন করে চাপে পড়েছে।

Advertisements