৪ অক্টোবর, ২০২৬ | রবিবারবাংলা: ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
জীবনযাপন

কাজা রোজা ভেঙে গেলে করণীয় কী

কাজা রোজা ভেঙে গেলে করণীয় কী

ইসলামে রোজা শুধু একটি ইবাদত নয়, এটি আত্মসংযম, দায়িত্ববোধ এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের এক গভীর অনুশীলন। প্রাপ্ত বয়স্ক, সুস্থ মস্তিস্ক, সক্ষম প্রত্যেক মুসলিমের উপর দিনে পাঁচবার নামাজ আদায় ও রমজান মাসে রোজা রাখা ফরজ। নামাজ, রোজা এবং অন্যান্য ইবাদতের বিধানের পাশাপাশি অক্ষমতা, অপারগতায় প্রতিবিধানও দিয়েছেন আল্লাহ তায়ালা।

কখনো অসুস্থতা, ভ্রমণ, গর্ভাবস্থা বা অন্য কোনো শরয়ি কারণে রমজানে রোজা রাখা সম্ভব না হলে পরে তা কাজা করে নেওয়ার বিধান রয়েছে। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআন শরীফ-এ সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—সামর্থ্য না থাকলে পরবর্তী সময়ে সমসংখ্যক রোজা পূরণ করতে হবে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘সিয়াম বা রোজা নির্দিষ্ট কয়েক দিন। তবে তোমাদের যারা পীড়িত থাকবে বা ভ্রমণে থাকবে, তারা অন্য সময়ে এর সমপরিমাণ সংখ্যায় পূর্ণ করবে। আর যাদের রোজা পালনের সক্ষমতা নেই, তারা এর পরিবর্তে ফিদিয়া, (প্রতি রোজার জন্য) একজন মিসকিনকে (এক দিনের নিজের) খাবার দেবে। যে ব্যক্তি অধিক দান করবে, তবে তা তার জন্য অতি উত্তম। আর যদি তোমরা পুনরায় রোজা পালন করো, তবে তা তোমাদের জন্য উত্তম। (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৪)।’

অর্থাৎ, কাজা রোজা কোনো ‘অতিরিক্ত’ ইবাদত নয়; এটি ফরজ ইবাদতেরই ধারাবাহিকতা।

শরীয়ত নির্ধারিত কোনো কারণে রমজানের রোজা কাজা হয়ে গেলে যত দ্রুত সম্ভব তা পালন করে নেওয়া উচিত। কারণ, বিলম্ব করলে পরবর্তীতে হয়তো আর কখনো তা আদায় করা সম্ভব হবে না। ক্ষণস্থায়ী জীবনে আকস্মিকভাবে মৃত্যু এসে কখন সব শেষ করে দেয় তা বলা যায় না। তাই কাজা রোজা পালনে বিলম্ব করা মুমিনের জন্য কোনোভাবে উচিত নয়।

কাজা রোজা রাখার পর সেটি ইচ্ছাকৃতভাবে ভেঙে ফেলা উচিত নয়। এটি গুনাহের কাজ হিসেবে বিবেচিত। তবে বাস্তবে কেউ যদি কোনো কারণ ছাড়াই কাজা রোজা ভেঙে ফেলেন, তাহলে তার ওপর এ গুনাহের কাজ থেকে তওবা করা আবশ্যক।

Advertisements

আর কোনো কারণে কিংবা ওজর ছাড়া রোজা ভেঙ্গে ফেললে ওই দিনের রোজার বদলে অন্য একদিন রোজার কাজা পালন করা ফরজ।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—
কাজা রোজা ভেঙে ফেললে কাফফারা (অতিরিক্ত শাস্তিমূলক রোজা বা দান) দিতে হয় না।

কারণ কাফফারা নির্ধারিত হয়েছে শুধুমাত্র রমজান মাসের ফরজ রোজা ইচ্ছাকৃতভাবে ভাঙার নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে, যেমন পানাহার বা সহবাসের মাধ্যমে।

রোজা শুধু না খেয়ে থাকার নাম নয় এটি আত্মনিয়ন্ত্রণের শিক্ষা। কাজা রোজার ক্ষেত্রেও একই সচেতনতা জরুরি। ভুল হলে তওবার দরজা সবসময় খোলা, কিন্তু দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

তাই যত্ন নিয়ে, মনোযোগ দিয়ে এবং আন্তরিক নিয়তে কাজা রোজা আদায় করাই একজন মুমিনের জন্য উত্তম পথ।

Advertisements