বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬
বিবিধ

বৈধ কাগজ ও লাইসেন্স ছাড়া মোটরসাইকেলে তেল মিলছে না, ভোগান্তিতে চালকরা

বৈধ কাগজ ও লাইসেন্স ছাড়া মোটরসাইকেলে তেল মিলছে না, ভোগান্তিতে চালকরা

টানা তিন দিনের স্থবিরতা কাটিয়ে অবশেষে গাইবান্ধায় সীমিত পরিসরে জ্বালানি সরবরাহ শুরু হলেও নতুন নিয়মে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকেরা। প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে তেল বিক্রি চালু হলেও বৈধ কাগজপত্র ও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করায় অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন খালি হাতে।

সোমবার (২৩ মার্চ) সন্ধ্যার পর শহরের ডিবি রোডে একটি ফিলিং স্টেশন এবং রাত ৮টার দিকে বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আরেকটি পাম্পে প্রশাসনের উপস্থিতিতে তেল বিক্রি শুরু হয়। পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তদারকিতে সীমিত পরিসরে জ্বালানি বিতরণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে মোটরসাইকেলে তেল নিতে হলে বাধ্যতামূলকভাবে হেলমেট পরা, ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদর্শন এবং গাড়ির বৈধ কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে হবে। অন্যথায় তেল না দিয়ে উল্টো জরিমানার মুখে পড়তে হচ্ছে চালকদের। পাশাপাশি প্রতিটি মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে।

প্রশাসনের দাবি, তেলের অপচয় রোধ, মজুতদারি বন্ধ এবং কালোবাজার নিয়ন্ত্রণে আনতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তবে তেল সরবরাহ শুরু হতেই পাম্পগুলোতে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকেই তেল পাননি, বিশেষ করে যাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিল না তারা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন।

পাম্পে অপেক্ষমাণ একাধিক বাইকার জানান, হঠাৎ করে এ ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করায় তারা প্রস্তুত ছিলেন না। কেউ কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরেছেন।

এদিকে পাম্পে সরবরাহ সংকট থাকলেও খোলা বাজারে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অনেকেই দাবি করছেন, প্রতি লিটার তেল ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

পাম্প মালিকদের মতে, অতিরিক্ত চাহিদা এবং অসাধু চক্রের কারণে সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে পরে বেশি দামে বিক্রি করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে প্রশাসনের সরাসরি তদারকি ছাড়া তেল বিক্রি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক তেল সংকটের কারণে জেলার বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে মাত্র দুটি পাম্পে সরবরাহ চালু হলেও সার্বিক পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। অন্যান্য পাম্পে জ্বালানি সরবরাহ শুরু না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Advertisements