তুষি–সাবিলা থেকে পূজা–ফারিণ: ঈদের ছবির নায়িকারা কে কোথায় দাঁড়িয়ে

প্রতি ঈদেই দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় আসেন তারকারা। তবে এবার ঈদের সিনেমাগুলো ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন চার নায়িকা—পূজা চেরী, নাজিফা তুষি, তাসনিয়া ফারিণ ও সাবিলা নূর। ভিন্ন ভিন্ন পথচলা, আলাদা অভিজ্ঞতা আর নিজস্ব অভিনয়ধারায় তারা প্রত্যেকেই দাঁড়িয়ে আছেন নিজ নিজ অবস্থানে। কিন্তু চার নায়িকার মধ্যে ক্যারিয়ারের দিক থেকে কে কোথায় দাঁড়িয়ে—সেই প্রশ্নই এখন দর্শকমহলে।
পূজা চেরী শিশু শিল্পী থেকে নায়িকা—দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তিনি ইতিমধ্যে এক যুগের ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন। তবে ঈদে মুক্তি পাওয়া রেদওয়ান রনির সিনেমা দম–এর জন্য তিনি অডিশন দিয়েছিলেন। ঢাকাই সিনেমার জন্য যা নতুনই বলা যায়। ছবিতে রানী চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। সিনেমার হিসাব করলে গত কয়েক বছরে মুক্তি পাওয়া পূজা অভিনীত ‘জ্বীন’, ‘লিপিস্টিক’, ‘টাইগার’—কোনোটাই সেভাবে সাড়া ফেলতে পারেনি। হয়তো ‘দম’ দিয়েই নিজেকে ফিরে পাবেন পূজা। মুক্তির পর সে ইঙ্গিতও মিলছে। ছবিতে নিশোর সঙ্গে রসায়ন থেকে আবেগের দৃশ্য তার অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন দর্শকেরা। নির্মাতা রেদওয়ান রনিও তাকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন। ‘একজন শিল্পীর নিবেদন ছাড়া, তার চরিত্রের প্রতি ভালোবাসা ছাড়া কখনোই এমন একটা জায়াগায় পৌঁছানো সম্ভব নয়, সবাই প্রশংসা করে। পূজা এই গল্প, চরিত্র বিশ্বাস করেছে, ফলে ও চরিত্রের জন্য নিজেকে ভেঙে নতুন করে তৈরি করেছে,’ বলেন তিনি।

২০২২ সালে মেজবাহউর রহমান সুমনের ‘হাওয়া’ সিনেমার পর যেন ‘হাওয়া’ হয়ে গিয়েছিলেন নাজিফা তুষি। এবার ফিরলেন রায়াহন রাফীর ‘প্রেশার কুকার’ দিয়ে। ছবিতে রেশমা চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। টিজারে তুষিকে দেখা গেছে নানা লুকে, তখন থেকেই প্রশংসিত হচ্ছেন তিনি। গত রোববার রাতে ছবির অন্যতম চিত্রনাট্যকার মেহেদি হাসান ফেসবুক তুষিকে নিয়ে লিখেছেন, ‘একেকজন অভিনেতার একেক রকম প্রসেস থাকে, চরিত্র তো আর অভিনেতা ভেবে হয় না। কিন্তু রেশমা আসলে নাজিফা তুষি না হলে হতো না। যখন ডায়ালগ নিয়ে বসছি, আমরা তখন থেকেই তুষির মেথড অ্যাকটিংয়ের প্রসেস দেখতাম বসে বসে। কখনো তুষিকে দেখি ভাতের হোটেলে ঘুরছে এই চরিত্র নিয়ে, কখনো লেখার সময় পাশে বোরকা পরে একটা মেয়ে এলে ‘স্লামালাইকুম’ বলতেই দেখতাম, সে আসলে তুষি, কখনো বসে ব্যাকস্টোরি সাজাতাম আমরা, আবার কখনো একদিন হুট করে সব ডায়ালগ নতুন অ্যাকসেন্টে ট্রাই করা। পর্দায় জাস্ট টেক্সটগুলো ব্লার হয়ে গেল আর আমি তুষিকে রেশমা হয়ে যেতে দেখলাম।’ এই সিনেমা ছাড়াও চলতি বছর রইদ সিনেমায় দেখা যাবে তুষিকে। এ ছবি দিয়েই আবার ফিরছেন সুমন–তুষির নির্মাতা–অভিনেতা জুটি।

তাসনিয়া ফারিণের যাত্রা তুলনামূলকভাবে নতুন হলেও বহুমাত্রিক। নাটক ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করার পর তিনি বড় পর্দায় পা রাখেন। ‘ইনসাফ’ ছবিতে তার উপস্থিতি ছিল সম্ভাবনাময়, আর এবার ‘প্রিন্স’-এ বড় বাজেটের বাণিজ্যিক সিনেমায় দেখা গেছে তাকে। তবে এই ছবিতে তার স্ক্রিন উপস্থিতি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। অনেকেই মনে করছেন, তার অভিনয়দক্ষতা পুরোপুরি ব্যবহৃত হয়নি। এর আগে ভিন্নধারার সিনেমায় তার প্রশংসিত পারফরম্যান্স প্রমাণ করে—তিনি সক্ষম, কিন্তু মূলধারার বাণিজ্যিক সিনেমায় নিজের জায়গা শক্ত করতে এখনও সময় প্রয়োজন।

ফারিণের মতো তার গত ঈদের পুরোপুরি বাণিজ্যিক সিনেমায় অভিষেক হয় সাবিল নূরের। সেটা ছিল শাকিব খানের নায়িকা হিসেবে, রায়হান রাফীর তাণ্ডব–এ। ছবিতে তার উপস্থিতি স্বল্প হলেও সপ্রতিভ ছিলেন সাবিলা, বিশেষ করে ছবির ‘লিচুর বাগানে’ গানটি আলোচিত হয়। এবার তিনি হাজির হয়েছেন তানিম নূরের ‘বনলতা এক্সপ্রেস’–এ; ছবির প্রধান চরিত্র চিত্রা হিসেবে। এক বিশ্ববিদ্যালয় পড়া তরুণীর চরিত্র। সিনেমাটির জন্য অন্য আরেকটি সিনেমার প্রস্তাব ফিরিয়েছিলেন সাবিলা। কারণ, দুটির শুটিং প্রায় একই সময় পড়েছিল। তারকাবহুল সিনেমা বনলতা, মুক্তির পর থেকে ছবির অন্য পাত্র–পাত্রীদের মতো সাবিলারও প্রশংসা করেছেন অনেকে। মুক্তির পর হল ভিজিটে গিয়ে তিনি বলেছেন, ছবিটি পুরো টিম অ্যাফোর্ট। এমন দারুণ একটা টিমের সঙ্গে কাজ করতে পেরে তিনি খুশি। ‘তাণ্ডব’, ‘বনলতা’র পর সামনে হয়তো আরও বৈচিত্র্যময় চরিত্রে পাওয়া যাবে।

সব মিলিয়ে দেখা যায়, চার নায়িকার অবস্থান চার রকম। পূজা চেরী অভিজ্ঞতা দিয়ে ফিরে আসার লড়াইয়ে, নাজিফা তুষি অভিনয়নির্ভর জায়গায় নিজের শক্ত ভিত গড়ছেন, তাসনিয়া ফারিণ খুঁজছেন মূলধারার সিনেমায় স্থায়ী অবস্থান, আর সাবিলা নূর ধীরে ধীরে নিজেকে বহুমাত্রিক অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পথে।
ঈদের এই প্রতিযোগিতামূলক মৌসুমে তাঁদের সবারই লক্ষ্য এক—দর্শকের মন জয় করা। তবে পথ ভিন্ন, গতি ভিন্ন। আর সেই ভিন্নতার মধ্যেই তৈরি হচ্ছে নতুন প্রজন্মের নায়িকাদের এক বৈচিত্র্যময় মানচিত্র।



