বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
বিনোদন

পাকিস্তানি টিকটকার সানা ইউসুফের হত্যাকাণ্ড মামলার রায় প্রকাশ

sy-cvr_6knf

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি সেশন আদালত বহুল আলোচিত টিকটক ইনফ্লুয়েন্সার সানা ইউসুফ হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি উমর হায়াতকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। গত মঙ্গলবার (১৯ মে) অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জাজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আফজাল মজুকা এ রায় ঘোষণা করেন।

২৩ বছর বয়সী উমর হায়াত একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তার ছেলে। গত বছর জুন মাসে নিজ বাসভবনে সানাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। হত্যার পরদিন ফয়সালাবাদ থেকে উমরকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পাকিস্তান দণ্ডবিধির (পিপিসি) ৩০২(বি) ধারা অনুযায়ী খুনের অপরাধে তাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়। তবে দেশটির গণমাধ্যম বলছে, ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য ইসলামাবাদ হাইকোর্টের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।

আদালত মৃত্যুদণ্ডের আদেশ ছাড়াও নিহতের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। রায়ে বলা হয়েছে, ক্ষতিপূরণ দিতে ব্যর্থ হলে উমরকে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া ডাকাতির অপরাধে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২ লক্ষ টাকা জরিমানা, মানহানির অপরাধে আরও ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ২ লক্ষ টাকা জরিমানা এবং চোরাই মাল রাখার অপরাধে ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বিচারক জানান, সব সাজা একসঙ্গে চলবে এবং আসামি ইতিপূর্বে যতদিন হেফাজতে ছিলেন তা মূল সাজা থেকে বাদ দেওয়া হবে।

গ্রেফতারের পর ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সানা ইউসুফজে খুনের বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছিলেন। তবে রায় ঘোষণার আগের দিন, গত সোমবার দেওয়া জবানবন্দিতে উমর হায়াত তার আগের অবস্থান থেকে সরে এসে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘আমাকে এই মামলায় মিথ্যাভাবে ফাঁসানো হয়েছে।’ সামাজিক মাধ্যমে তৈরি হওয়া জনমতের চাপের কারণে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে দাবি করে তিনি। উমরের কথায়, ‘আমার সঙ্গে সানার কোনো ঝগড়া হয়নি, আমি কখনও তার সঙ্গে দেখা করার অনুরোধ করিনি এবং তার সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগও ছিল না।’

সানা ইউসুফের হত্যাকাণ্ড পুরো পাকিস্তানজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় তুলেছিল। আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন সানার বাবা-মা। রায় ঘোষণার পর সানার মা ফারজানা আবেগপ্লুত হয়ে বলেন, ‘আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি। অপরাধীকে সঠিক শাস্তি দেওয়া হয়েছে।’

নিহত সানার বাবা ইউসুফ হাসান বলেন, ‘আমরা গত ১১ মাস ধরে আজকের দিনটির জন্য অপেক্ষা করছিলাম। বিচার বিভাগ ন্যায়বিচার করেছেন। এই রায় শুধু আমার ব্যক্তিগত কোনো বিষয় নয়; এটি পুরো সমাজের জন্য। এ ধরনের অপরাধীদের জন্য এটি একটি শিক্ষা। তারা যদি এমন কোনো অপরাধ করে তবে তাদের পরিণতিও এমনই হবে।’

সূত্র: ডন

আদালতটিকটকপাকিস্তানিমামলারায়হত্যা