বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ২০ মে, ২০২৬
নারী

নেপাল লিগে প্রথম বাংলাদেশী নারী ফুটবলার হিসেবে খেলবেন সানজিদা

ertytutyiyu

দেশের নারী ফুটবলে সানজিদা আক্তার আরেকটি ইতিহাস সৃষ্টি করলেন। এবার তিনি নেপালের ক্লাব ফুটবলে খেলবেন। কাঠমান্ডুতে আজই মাঠে নামার কথা রয়েছে তার। ক্লাব ফুটবলে বাংলাদেশ থেকে তিনিই প্রথম কোনো ফুটবলার, যিনি বাংলাদেশ থেকে নেপালের ঘরোয়া লিগে খেলতে গেলেন। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে বিমানে ওঠার আগে সানজিদা জানালেন, ‘আমি-ই প্রথম ফুটবলার নেপালের লিগে খেলতে যাচ্ছি।’

এর আগে সানজিদা ভারতের ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবে খেলেছেন। বাংলাদেশ থেকে তিনি-ই প্রথম কোনো নারী ফুটবলার যে কিনা ভারতের ক্লাব ফুটবল ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবে খেলেছেন। ৯০ দশকের গোড়ায় পুরুষদের মধ্যে আসলাম, মোনেম মুন্না, গাউসরা ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের জার্সি গায়ে খেলেছেন। নেপাল সানজিদার জন্য অন্যরকম শহর। এই শহরে সানজিদা দুইবার সাফ জিতে এসেছেন। বাংলাদেশকে সাফের ট্রফি উপহার দিয়েছেন। সেই শহরে ক্লাব ফুটবলে খেলতে যাওয়া ভিন্ন অনুভূতি, রোমাঞ্চকর বলছেন সানজিদা আক্তার।

নেপালে লিগের মাঝপথে যাচ্ছেন সানজিদা। ঝাপা এফসির জার্সি গায়ে খেলবেন। এরই মধ্যে ছয় ম্যাচ শেষ হয়ে গেছে। আরও এক মাসের লিগ রয়েছে, পুরোটা সময় থাকতে হবে। আক্রমণভাগের ফুটবলার সানজিদার পছন্দ ৭ অথবা ১০ নম্বর জার্সি। সেটি নেপালের ক্লাবে পাচ্ছেন না। ‘আমি সাত নম্বর, দশ নম্বর নিয়ে খেলি। কিন্তু নেপালের ক্লাবের এই দুটি জার্সিতে অন্য দুই ফুটবলার খেলবেন বলে আমাকে ৬ নম্বর জার্সি দেওয়া হয়েছে।’

সানজিদা বলেন, ‘আসলে জার্সির ৬ নম্বর কোনো বিষয় না। এটা একটা সংখ্যা মাত্র। এখানে খেলাটাই বড় কথা। সবাই খেলা দেখবে। জার্সির নম্বর দেখবে না কেউ।’

এবারের ঈদ উপলক্ষ্যে খুব ব্যস্ত সময় গেছে সানজিদার। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের ঈদ অনুষ্ঠানে রেকর্ডিংয়ে দৌড়াতে হয়েছে। কখনো বাংলা ভিশন তো কখনো চ্যানেল টুয়েন্টিফোর। কিন্তু কোনো অনুষ্ঠান দেখা তো দূরের কথা, ঈদটাই করতে পারছেন না ময়মনসিংহে বাবা-মায়ের সঙ্গে। ‘দুই বছর ধরে ঈদ বাড়িতে ঈদ করা হয় না। মনটা খারাপ লাগছে। ঈদের সময় বিদেশে খেলা হয়েছে। এবার ভেবে ছিলাম ঈদ করতে যাব। সব প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু দুই দিনের মধ্যে নেপাল লিগে খেলাটা কনফার্ম হয়ে যাওয়ায় সব ওলট-পালট হয়ে গেল।’

নেপালের ক্লাব ফুটবলে বিদেশি কোটা চার জনের। সানজিদা জানালেন, ঝাপা এফসিতে অলরেডি ভুটানের এক ফুটবলার খেলছেন। আমি গেলে দুই জন হবে। আর কেউ যাবে কি না আমি জানিনা।’

২০২৪ সালে সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়ে আসার পর ইংলিশ কোচ পিটার বাটলারের সঙ্গে সাফ অধিনায়ক সাবিনা খাতুনদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। সেই সময় সানজিদা সাবিনাদের পক্ষে গিয়েছিলেন। পরবর্তী সময় অনেকেই পিটারের জাতীয় দলে ফিরলেও সাবিনা, মাসুরা, মাতসুসিমা, সানজিদাদের আর জাতীয় দলে ফেরা হয়নি। সাবিনারা ফুটসাল সাফে খেলতে গেলেও সানজিদা ফুটসালের অফার ফিরিয়ে দিয়ে পুলিশ দলের হয়ে লিগ খেলেছেন।

নারীনেপালফুটবলবাংলাদেশী