বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬
জীবনযাপন

ঈদের ছুটিতে ফাঁকা বাসা রেখে যাচ্ছেন? বাসার নিরাপত্তায় রাখুন বাড়তি নজর

fakam_main_20250530_124837400

ঈদ মানেই আনন্দ, উৎসব আর প্রিয়জনদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার অপেক্ষা। এই সময়টাতে শহরের ব্যস্ত জীবন ছেড়ে অনেকেই ছুটে যান গ্রামের বাড়িতে, পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে। তাই ঈদ যত ঘনিয়ে আসে, ততই বাড়তে থাকে ঘরমুখো মানুষের ব্যস্ততা। বিশেষ করে রমজানের শেষদিকে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি যেন আরও তাড়াহুড়োর হয়ে ওঠে। তবে এই তাড়াহুড়োর মাঝেই অনেক সময় আমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভুলে যাই, যা পরে বড় ধরনের সমস্যার কারণ হতে পারে।

ঈদের ছুটিতে শহরের বাসা ফাঁকা রেখে যাওয়ার আগে কিছু প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সামান্য সতর্কতা ও পরিকল্পনা আপনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা বা দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করতে পারে।

প্রথমেই নিশ্চিত করুন বাসার দরজা-জানালা ঠিকভাবে বন্ধ করা হয়েছে কি না। তালা ভালোভাবে লাগানো হয়েছে কি না, তা একাধিকবার পরীক্ষা করে দেখা ভালো। ঈদের সময় অনেক বাসা ফাঁকা থাকে বলে চুরি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে। তাই বাসার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি বাসার কোনো লক নষ্ট থাকে বা পানির ট্যাপ থেকে পানি পড়তে থাকে, তাহলে যাত্রার আগেই সেগুলো মেরামত করে নেওয়া উচিত।

বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির দিকেও বিশেষ নজর দিতে হবে। টেলিভিশন, ফ্রিজ, কম্পিউটার, ওভেন কিংবা ওয়াশিং মেশিন—এসব যন্ত্রের সংযোগ বাসা ছাড়ার আগে বিচ্ছিন্ন করে রাখা নিরাপদ। বর্তমানে আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সম্ভাবনাও থাকে। এ সময় বৈদ্যুতিক সংযোগ চালু থাকলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়। বিশেষ করে ফ্রিজে যদি বেশি খাবার থাকে, তাহলে সেগুলো আগে ব্যবহার করে ফ্রিজ খালি করে সংযোগ বন্ধ করে যাওয়া ভালো।

বাসা থেকে বের হওয়ার আগে গ্যাসের চুলা ভালোভাবে বন্ধ করা হয়েছে কি না, সেটিও অবশ্যই দেখে নিতে হবে। শুধু চুলার নব নয়, পেছনের গ্যাস লাইনের মূল চাবিটিও বন্ধ করে রাখুন। রান্নাঘরে যদি ভেন্টিলেটর না থাকে, তাহলে জানালা সামান্য খোলা রাখলে বাতাস চলাচল সহজ হবে এবং গ্যাস জমে থাকার ঝুঁকি কমবে।

অনেক বাসায় বারান্দায় বিভিন্ন ধরনের গাছপালা থাকে। কয়েক দিনের জন্য বাইরে গেলে গাছের পানির বিষয়টিও মাথায় রাখা দরকার। সাধারণত এক সপ্তাহ পর্যন্ত গাছ পানি ছাড়া টিকে থাকতে পারে। তবে এর বেশি সময় বাইরে থাকলে প্রতিবেশী বা পরিচিত কাউকে গাছে পানি দেওয়ার দায়িত্ব দিয়ে যাওয়া ভালো।

এছাড়া অনেকেই বাসায় পোষা প্রাণী রাখেন। সম্ভব হলে পোষা প্রাণীকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে ভালো। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে এমন কারও কাছে রেখে যান, যেখানে সে নিরাপদে ও যত্নে থাকতে পারবে। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এমন অনেক গ্রুপ আছে, যেখানে পোষা প্রাণী সাময়িকভাবে রাখার ব্যবস্থা করা যায়।

সামান্য কিছু সচেতনতা ও পরিকল্পনা ঈদের আনন্দকে আরও নিশ্চিন্ত ও নিরাপদ করে তুলতে পারে। তাই গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার আগে নিজের বাসার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভুলবেন না।

Advertisements