বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬
জীবনযাপন

ঈদের আগে ঘর পরিষ্কার করবেন যেভাবে

Homeee

সামনে ঈদ। স্বাভাবিকভাবেই মাথায় ঘর পরিষ্কার করার চিন্তা ভর করেছে। কিন্তু রোজা রেখে আলমারি গোছানো, রান্নাঘর পরিষ্কার, ড্রইংরুম ঝাড়া, পর্দা ধোয়া সব মিলিয়ে কাজ যেন শেষই হতে চায় না।

অনেক সময় পুরো বাড়ি একসঙ্গে গুছানো সম্ভবও হয়ে ওঠে না। ফলে কাজ শুরুর আগেই তা কঠিন ও ক্লান্তিকর মনে হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, পুরো বাড়ি একসঙ্গে পরিষ্কার করার চেষ্টা না করে ঈদের আগে যদি ঘরকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করা যায়, তাহলে কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়।
একে বলা হয় ‘জোন’ বা ভাগে ভাগে কাজ করার পদ্ধতি। অর্থাৎ পুরো বাড়িকে কয়েকটি নির্দিষ্ট অংশে ভাগ করে প্রতিদিন একটি করে অংশ পরিষ্কার করা।এতে কাজের চাপ কমে এবং ঘর পরিষ্কার করাও অনেক সহজ ও স্বাভাবিক মনে হয়।

একসঙ্গে সব পরিষ্কার করতে গেলে চাপ বাড়ে

অনেক সময় ঘর পরিষ্কার করার পরিকল্পনা করলেও, শুরু করা যায় না। কারণ চারদিকে তাকালে একসঙ্গে অনেক কাজ চোখে পড়ে।রান্নাঘরে থালা-বাসন জমে আছে, বসার ঘরে ধুলা, আলমারিতে অগোছালো কাপড়, বাথরুম পরিষ্কার করা দরকার—সব মিলিয়ে মনে হয় কাজের কোনো শেষ নেই।

অন্দরসজ্জাবিদ গুলশান নাসরিন মনে করেন, সমস্যাটা আসলে অগোছালো ঘর নয়, বরং একসঙ্গে সব কাজ করার চেষ্টা। তার মতে, কাজকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করলে মানসিক চাপ অনেক কমে যায় এবং কাজ শুরু করা সহজ হয়।

Advertisements

তিনি বলেন, ‘কেউ যদি ঈদের আগে পুরো রান্নাঘর একসঙ্গে গোছাতে চায়, সেটি খুব বড় কাজ মনে হতে পারে। তবে শুধু একটি ড্রয়ার গোছানোর কথা ভাবলে কাজটি অনেক সহজ মনে হয়।’
এই ছোট ছোট কাজগুলো শেষ করতে করতে একসময় পুরো জায়গাটাই গুছিয়ে যায়।

চাপ কমাতে কাজ ভাগ করার কৌশল

মানুষের মস্তিষ্ক একসঙ্গে অনেক তথ্য প্রক্রিয়াজাত করতে গেলে চাপ অনুভব করে। বাড়িকে কয়েকটি নির্দিষ্ট অংশে ভাগ করলে মানসিকভাবে একটি সীমা তৈরি হয়।তখন মনে হয়, এখন শুধু এই ছোট জায়গাটুকু নিয়েই কাজ করতে হবে। এই ধারণাই কাজ শুরু করার সাহস দেয়।
এছাড়া এই পদ্ধতি মানসিকভাবে শান্ত করে এবং কাজকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে এনে দেয়। ফলে ঘর পরিষ্কার করা আর চাপের কাজ মনে হয় না।

ঘরের ‘জোন’ বা অংশ যেভাবে নির্ধারণ করতে হয়

প্রথমেই পুরো বাড়িকে কয়েকটি বড় ভাগে ভাগ করতে হয়। সাধারণভাবে একটি বাড়িতে পাঁচটি প্রধান অংশ ধরা যায়।

‘রান্নাঘর ও খাবার ঘর, বসার ঘর, শোবার ঘর, বাথরুম এবং প্রবেশপথ বা করিডোর’- বলেন গুলশান নাসরিন।

প্রতিটি অংশ আবার ছোট ছোট জায়গায় ভাগ করা যায়। যেমন- রান্নাঘরের মধ্যে আলমারি, রান্নার টেবিল, ফ্রিজের ভেতর, থালা রাখার জায়গা। এসব আলাদা ‘জোন’ হতে পারে।

একইভাবে বসার ঘরে টেবিল, মেঝে, সোফার পাশে রাখা তাক। এসবও আলাদা অংশ হিসেবে ধরা যায়।

এই অন্দরসজ্জাবিদ বলেন, ‘ঘরের যেসব জায়গার নাম সহজে বলা যায়, সেগুলো থেকেই শুরু করা ভালো। যেমন- টেবিল, মেঝে, রান্নাঘরের তাক, বাথরুমের তাক। এসব জায়গা পরিষ্কার করা সহজ এবং দ্রুত ফলও দেখা যায়।’

ছোট বাসায় ‘জোন’ পদ্ধতি আরও কার্যকর

ছোট ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্টে অনেক সময় একটি ঘরই একাধিক কাজে ব্যবহার করা হয়। ফলে অগোছালো হয়ে যাওয়া সহজ। এক্ষেত্রে জোন পদ্ধতি আরও বেশি কার্যকর হতে পারে।

ছোট বাসায় একটি টেবিল, একটি আলমারি, রান্নাঘরের একটি তাক বা বাথরুমের একটি ক্যাবিনেটও আলাদা জোন হিসেবে ধরা যায়।প্রতিদিন একটি করে জায়গা পরিষ্কার করলে খুব অল্প সময়েই পুরো ঘর গুছিয়ে ফেলা সম্ভব।

যেখান থেকে শুরু করলে কাজ সহজ হয়

গুলশান নাসরিন পরামর্শ দেন, ‘মনে করেন, পরিষ্কার করার সময় এমন জায়গা থেকে শুরু করা উচিত যা চোখে সবচেয়ে বেশি পড়ে। অনেক সময় মেঝেতে ছড়িয়ে থাকা জিনিসগুলোই ঘরকে বেশি অগোছালো দেখায়।’

তাই প্রথমে মেঝে পরিষ্কার করা বা ছড়িয়ে থাকা জিনিস সরিয়ে ফেললে ঘর দ্রুত গোছানো মনে হয়।এরপর টেবিল, খাবার টেবিল বা প্রতিদিন ব্যবহারের জায়গাগুলো পরিষ্কার করলে ঘরের চেহারা অনেকটাই বদলে যায়।

এইভাবে ঘরের চারপাশে ধীরে ধীরে একেকটি অংশ পরিষ্কার করা সম্ভব। এতে কাজের ধারাবাহিকতা থাকে এবং ক্লান্তিও কম হয়।

পরিবারের জীবনযাত্রার সঙ্গে মিল রেখে পরিকল্পনা

ঘর গোছানোর সময় অনেকেই এমনভাবে পরিকল্পনা করেন, যা বাস্তব জীবনের সঙ্গে মেলে না। তবে ঘরের ‘জোন’ এমনভাবে নির্বাচিত করা উচিত যাতে তা পরিবারের জীবনযাত্রার সঙ্গে মানানসই হয়।

যেমন, যদি দরজার পাশে থাকা হুকে কেউ জামা ঝুলিয়ে না রাখে, বরং মেঝেতেই রেখে দেয়, তাহলে সেখানে একটি ঝুড়ি রাখা যেতে পারে। এতে ঘর অগোছালো হবে না এবং পরিবারের সদস্যরাও সহজে অভ্যাসটি অনুসরণ করতে পারবেন।অর্থাৎ ঘরকে এমনভাবে সাজাতে হবে, যাতে মানুষ স্বাভাবিকভাবে সেটি ব্যবহার করতে পারে।

সপ্তাহভিত্তিক পরিষ্কারের পরিকল্পনা

ঈদের যেহেতু এখনও বাকি আছে তাই জোন পদ্ধতিকে আরও কার্যকর করতে সপ্তাহভিত্তিক পরিকল্পনা করা যেতে পারে।সপ্তাহের প্রতিটি দিনে একটি করে অংশ পরিষ্কার করা যায়। যেমন- একদিন রান্নাঘর, আরেকদিন বসার ঘর, অন্যদিন শোবার ঘর।

পরিষ্কার করার শুরুতে কয়েক মিনিট সময় নিয়ে ঘরের দৃশ্যমান জিনিসগুলো গুছিয়ে নেওয়া ভালো। যেমন- টেবিল পরিষ্কার করা বা জুতা ও কাপড় ঠিক জায়গায় রাখা। এতে খুব দ্রুত ঘর গুছানো মনে হয়।

এরপর সেই জোনে প্রয়োজনীয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করা যায়। যেমন- রান্নাঘরে মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার ফেলে দেওয়া, বসার ঘরে ধুলা পরিষ্কার করা, শোবার ঘরে বিছানা গুছানো বা বাথরুম পরিষ্কার করা।

Advertisements