বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬
নারী

অষ্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক আশ্রয়ে ইরানের আরও দুই ২ নারী ফুটবলার

prothomalo-bangla_2026-03-11_7k5gxc3j_249703-01-02

অস্ট্রেলিয়ায় সফররত ইরানের নারী ফুটবল দলের আরও দুই সদস্য দেশটিতে রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছেন। বুধবার অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আশ্রয়প্রাপ্তদের মধ্যে একজন খেলোয়াড় এবং একজন সাপোর্ট স্টাফ সদস্য রয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে দল অস্ট্রেলিয়া ছাড়ার আগেই তারা দেশে না ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়ে আশ্রয়ের আবেদন করেন।

গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ায় একটি টুর্নামেন্ট চলাকালে ম্যাচ শুরুর আগে ইরানের জাতীয় সংগীত বাজানোর সময় কয়েকজন নারী ফুটবলার নীরব অবস্থায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে এটি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দেয়। সম্ভাব্য শাস্তি বা ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ অভিযোগের ভয়ে কয়েকজন খেলোয়াড় দেশে ফিরে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এর আগে দলের অধিনায়ক জাহরা ঘনবারিসহ পাঁচজন খেলোয়াড় গোল্ড কোস্টের টিম হোটেল থেকে বের হয়ে অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষের কাছে আশ্রয় চান। তাদের মানবিক কারণে বিশেষ ভিসা দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের একটি গোপন স্থানে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে সরকার কিছুদিন ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তিনি বলেন, “এই সাহসী নারীদের পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ানরা মর্মাহত। তারা এখানে নিরাপদ এবং আমরা চাই তারা যেন নিজেদের ঘরের মতো অনুভব করেন।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানান, কয়েকদিন ধরে অত্যন্ত গোপনে খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছিল। হোটেল ছাড়ার পর তাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং মানবিক কারণে বিশেষ ভিসা প্রদান করা হয়। ভিসার নথিতে স্বাক্ষর করার সময় খেলোয়াড়রা আনন্দ প্রকাশ করে ‘অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রেলিয়া’ স্লোগান দেন। অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত ইরানি প্রবাসীদের একটি অংশও এই ঘটনার সময় প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। গোল্ড কোস্টে দলটির হোটেল থেকে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রার সময় তারা খেলোয়াড়দের বহনকারী বাস ঘিরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

নতুন করে দুই সদস্য আশ্রয় পাওয়ায় অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় নেওয়া ইরানি নারী ফুটবল দলের সদস্যের সংখ্যা আরও বেড়েছে।

অষ্ট্রেলিয়াইরাননারী ফুটবলাররাজনৈতিক আশ্রয়