বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬
নারী

রুনা লায়লার গানে ‘বর্ণমালা’ চিনেছে ভারতের বিলুপ্তপ্রায় টোটো জাতি

runa-laila-2507010249

পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার টোটোপাড়া গ্রামে বসবাসকারী টোটো সম্প্রদায়ের ভাষা দীর্ঘদিন শুধু কথ্য রূপেই প্রচলিত ছিল। লিখিত লিপি না থাকায় ভাষাটি ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। এক সাক্ষাৎকারে ধনীরাম টোটো জানান, একদিন রেডিওতে তিনি শুনছিলেন রুনা লায়লার গাওয়া গান— তুমি আমি লিখি প্রাণের বর্ণমালা। গানের এই লাইনটি তার মনে গভীরভাবে নাড়া দেয়। সেখান থেকেই শুরু হয় দীর্ঘ গবেষণা ও চেষ্টা। পরবর্তীতে তিনি টোটো ভাষার জন্য একটি স্বতন্ত্র লিপি তৈরি করেন, যা এখন ‘টোটো-হরফ’ বা ‘তোত্বিকো আল্লাবেত’ নামে পরিচিত।

অত্যন্ত প্রাচীন, ক্ষুদ্র ও বিপন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠী টোটো সম্প্রদায়ের বসবাস ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ভুটান সীমান্তবর্তী এলাকায়। ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতার কারণে জনসংখ্যায় অল্প এ গোষ্ঠীর জীবনযাপনও সম্পূর্ণ ভিন্ন। এরা টোটো ভাষার কথা বলে। এই ভাষার ছিলোনা কোনো নিজস্ব লিখিত বর্ণমালা। এ ভাষার নেই কোনো লিখিত রূপ নেই। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ভাষাটি শুধু মুখে মুখেই টিকে রয়েছে। বর্তমানে টোটো গোষ্ঠীর সংখ্যা কমতে শুরু করায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ভাষাও ধীরে ধীরে বিলুপ্তির মুখে।

অদ্ভুত হলেও সত্য—এই ভাষার জন্য বর্ণমালা তৈরির প্রেরণা এসেছে বাংলাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার গাওয়া একটি গান থেকে। প্রায় চার দশক আগে গাওয়া তাঁর ‘তুমি আমি লিখি প্রাণের বর্ণমালা’ গানটির একটি লাইনই নাকি বদলে দেয় এক আদিবাসী মানুষের ভাবনা। কয়েক বছর আগে ধনীরাম টোটো টোটো ভাষার জন্য একটি স্বতন্ত্র বর্ণমালা তৈরি করেন। ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় তার এই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ভারত সরকার তাকে সম্মানজনক পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত করে।

সংগীতের এই অদ্ভুত প্রভাব প্রমাণ করে যে, শিল্প কেবল বিনোদনই নয়, বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের শক্তিশালী মাধ্যমও হতে পারে।

Advertisements
Advertisements
টোটো জাতিবর্ণমালাভারতরুনা লায়লাসংগীত