বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
বিবিধ

মূল্যস্ফীতি আবার ৯% ছাড়াল, ১০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ

মূল্যস্ফীতি আবার ৯% ছাড়াল, ১০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ

দেশে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে মূল্যস্ফীতি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশে। ফলে প্রায় নয় মাস পর আবারও মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ঘরে ফিরে গেল। এর আগে গত বছরের মে মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ০৫ শতাংশ।

এদিকে ফেব্রুয়ারির মূল্যস্ফীতি গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। সর্বশেষ গত বছরের এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৭ শতাংশ। সেই হিসেবে এপ্রিলের পর ফেব্রুয়ারির এই হারই সবচেয়ে বেশি।

রোববার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ফেব্রুয়ারি মাসের মূল্যস্ফীতির চিত্র তুলে ধরেছে। সংস্থাটির তথ্য বলছে, টানা চার মাস ধরে দেশে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। ফলে মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে।

বিবিএসের হিসাব অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ০১ শতাংশ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, টানা পাঁচ মাস ধরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বাড়ছে।

দেশে গত তিন বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রবণতা চলছে। ২০২৫ সালে দেশে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

মূল্যস্ফীতি কীভাবে প্রভাব ফেলে

মূল্যস্ফীতিকে অনেক অর্থনীতিবিদ এক ধরনের অদৃশ্য কর হিসেবে বিবেচনা করেন। কারণ, একজন মানুষের মাসিক আয়ের বড় অংশই সংসার চালাতে ব্যয় হয়। কিন্তু হঠাৎ যদি পণ্য ও সেবার দাম বেড়ে যায় এবং সে অনুযায়ী আয় না বাড়ে, তাহলে মানুষকে হয় ধারদেনা করতে হয়, নয়তো খাদ্য, পোশাক, যাতায়াত বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমাতে হয়।

মূল্যস্ফীতির তুলনায় মজুরি বা আয় বৃদ্ধি কম হলে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় কমে যায় এবং তাদের জীবনযাত্রার চাপ বাড়ে। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ০৬ শতাংশ। অর্থাৎ মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির তুলনায় কম।

অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির হার কমে যাওয়া মানেই যে বাজারে পণ্যের দাম কমে যাবে, তা নয়। বরং এর অর্থ হলো—আগের তুলনায় দাম বাড়ার গতি কিছুটা ধীর হয়েছে।

একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি সহজভাবে বোঝা যায়। যদি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কোনো ব্যক্তি বাজার থেকে পণ্য ও সেবা কিনতে ১০০ টাকা খরচ করে থাকেন, তাহলে এক বছর পর অর্থাৎ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে একই পণ্য ও সেবা কিনতে তাকে খরচ করতে হবে প্রায় ১০৯ টাকা ১৩ পয়সা। অর্থাৎ প্রতি ১০০ টাকায় খরচ বেড়েছে ৯ টাকা ১৩ পয়সা।

Advertisements