ধ/র্ষণে/র ঘটনায় ভুক্তভোগীর সুরক্ষা বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন

বাংলাদেশে পর পর কয়েকটা ধর্ষণের ঘটনা ঘটে গেল। যা কিনা সমাজের অস্থির নগ্ন দশার বহিঃপ্রকাশ মাত্র। বিগত কয়েক মাসে ধর্ষণের সবগুলোই সংগঠিত হয়েছে সংঘবদ্ধ অপরাধীদের দ্বারা। প্রতিদিন পত্রিকার পাতায় একটি দুটি নয়, পাতার পর পাতা দৃষ্টি আকর্ষণ করে চলেছে ধর্ষণের খবর। নারী, শিশু, কিশোরী ও কিশোর সব এই নির্যাতনের তালিকায়। ধর্ষণের এই আধিক্য শংকিত করে তোলে দেশের সচেতন নাগরিকদের।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগীর সুরক্ষা বিষয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ধর্ষণ আইন সংস্কার জোট। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, ব্র্যাক, ব্লাস্টসহ জোটের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ধর্ষণ আইন সংস্কার জোট আট দফা দাবি তুলে ধরেছে। দাবিগুলোর মধ্যে আছে ধর্ষণের ঘটনায় দ্রুত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা; ভুক্তভোগী, পরিবার ও সাক্ষীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা; সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করা। এ ছাড়া মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধর্ষণবিষয়ক আইন সংস্কার; প্রতিবন্ধী ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত, ভুক্তভোগী ও সাক্ষী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং উচ্চ আদালতের রায়ের যথাযথ বাস্তবায়ন; ভুক্তভোগীর চরিত্রগত সাক্ষ্যের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে সাক্ষ্য আইন, ২০২২ এর ১৪৬ এর (৩) ও ১৫১ ধারার সুষ্ঠু প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্য, বিচার ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫ দ্রুত আইনে পরিণত করার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ব্লাস্টের লিগ্যাল এইড স্পেশালিস্ট আয়েশা আক্তার। তিনি বলেন, দেশে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক শ্বাশ্বতী বিপ্লব বলেন, ধর্ষণ প্রতিরোধে আইন থাকা সত্ত্বেও ধর্ষণ থেমে নেই। তিনি দাবি করেন, নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনালে ৫ বছরের পুরোনো অন্তত ১০ হাজার মামলা বিচারাধীন আছে। মামলার এমন দীর্ঘসূত্রতা থাকলে ধর্ষকেরা ভয় পাবে না। অপরাধও বন্ধ হবে না।



