বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
খাবার-দাবার

ইফতারের মুড়িমাখায় জিলাপি: আপনি কোন পক্ষে?

prothomalo-bangla_2025-03-04_3jijej8q_Thumb

ইফতারের টেবিলে সাধারণত থাকে কাবাব, ডাবলি, বুটের ডাল, ডিম, পেয়াজু, বেগুনি, ছোলা ও মুড়ি। এর মধ্যে মুড়ি মাখা বাঙালিদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়। আলুর চপ, বেগুনি, পেয়াজু, ছোলা, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ আর সরিষার তেল মিশিয়ে ঝাল-ঝাল মুড়ি মাখা যেন ইফতারের অপরিহার্য অংশ। তবে ঠিক এখানেই ঘটে বিপত্তি! মুড়ি মাখায় জিলাপি থাকবে কি না এই আলোচনা -ই হয়ে উঠে গুরুত্বপূর্ণ। এই বিতর্ক ডাইনিং টেবিল থেকে শুরু হয়ে একদম ফেসবুকের ইভেন্ট পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।

ফেসবুকে ‘মুড়িতে জিলাপি, পক্ষ/বিপক্ষ’ ইস্যুতে খোলা হয়েছে একাধিক ইভেন্ট। এর মধ্যে ‘মুড়ি মাখাতে জিলাপি বন্ধ কর্মসূচি’ ও ‘ইফতারে মুড়িতে জিলাপি মাখার পক্ষে বিপক্ষে মারামারি চাই’ শিরোনামের ইভেন্টগুলো বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মোঘল আমলে পারস্যের ব্যবসায়ীদের হাত ধরে উপমহাদেশে আসে এই ডুবো তেলে ভাজা মিষ্টান্ন। মুড়ি মাখায় জিলাপি যেন জিলাপি বিরোধীদের কাছে এটি স্রেফ ‘খাবারের ওপর অত্যাচার’।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে একজন বলেন, অনেক মানুষ আইসক্রিমে ডুবিয়ে ফ্রেঞ্চফ্রাই খায়। তাহলে আমি কেন মুড়িতে জিলাপি মেশাতে পারব না? এটাকে বলে স্বাদের নতুনত্ব। যারা মুড়ি মাখায় জিলাপি অপছন্দ করে তারা প্রকৃত স্বাদ কী সেটাই জানে না। তাদের অর্ধেকের কাছেই টমেটো সস খাবারকে সুস্বাদু করার একটি উপকরণ। অন্য এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘পূর্বের ন্যায় মুড়ি মাখাতে জিলাপি থাকবে এবং এই ধারা আমৃত্যু অব্দি অব্যাহত চাই। লাউড এন্ড ক্লিয়ার।’

মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের মার্কেটিং বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নিয়ামুতুল ইসলাম শান্তর মতে, ‘মুড়ির সঙ্গে জিলাপি খাওয়ার মতো রুচিহীন ব্যাপার আর হয় না! মিষ্টি জিনিস মুড়ির সঙ্গে মেশানো মানে স্বাদের অপমান। ভাতের সঙ্গে কি কেউ চা মিশিয়ে খায়? তেমনি মুড়ির সঙ্গে জিলাপি মেশানোর মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য নেই, রুচির ছিটেফোঁটা তো নেই-ই। মুড়ি ঝালের জন্য, মিষ্টির জন্য না।’ মিম পেজ ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররা একে ‘সিভিল ওয়ার’ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। কেউ এটিকে ‘জগাখিচুড়ি’ বলেন, কেউ আবার এটাকে ‘স্বাদের বৈচিত্র্য’ বলে আখ্যা দেন।

স্বাদ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও স্বাস্থ্যগত বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা মেডিকেল কলেজের আবাসিক চিকিৎসক ফেরদৌস রাসেল বলেন, “ইফতারে অতিরিক্ত তেলেভাজা ও মিষ্টি খাওয়া স্বাস্থ্যসম্মত নয়। অনেক সময় অস্বাস্থ্যকর তেলে ভাজা খাবার খোলা অবস্থায় বিক্রি হয়। এতে অ্যাসিডিটি, বদহজম ও পেটের সমস্যা হতে পারে।”

খাবারের বিষয়টি মানুষকে সৃষ্টিশীল এবং নতুন উপভোগের সুযোগ দেয়। তবে, এই বিতর্কের শেষ কোথায়? জিলাপি-মুড়ি বিতর্ক আসলে এক ধরনের ‘নিরাপদ বিতর্ক’। তবে ইফতারের টেবিলে ভাজাপোড়া ও মিষ্টি খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

ইফতারজিলাপিবিতর্কমুড়িমাখা