একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য কবি জাহানারা আরজু মারা গেছেন

আজ সোমবার (২ মার্চ) বেলা ১টায় গুলশানে নিজ বাসভবনে একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য কবি জাহানারা আরজু মারা গেছেন।
বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত ২য় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদকসহ ২৬টি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। কবি জাহানারা আরজু তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম মহিলা সাপ্তাহিক ‘সুলতানা’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাকালীন সম্পাদক হিসেবে নারী সাংবাদিকতার ইতিহাসে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে রেখেছেন। নারী জাগরণের অগ্রদূত কবি সুফিয়া কামালের যোগ্য উত্তরসূরি ছিলেন জাহানারা আরজু। ১৯৪৯ সাল থেকে তিনি ও সুফিয়া কামাল যৌথভাবে ‘সুলতানা’ পত্রিকা সম্পাদনা শুরু করেন। এটি ছিল সে সময়ের নারী সমাজের কণ্ঠস্বর। পরে তিনি ১৯৬৫ সালে রাইটার্স গিল্ডের পত্রিকা পরিক্রমের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে যোগদান করেন। এছাড়া টিবি অ্যাসোসিয়েশনের পাক্ষিক হেলথ বুলেটিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ছিলেন। তিনি সেতুবন্ধন নামে একটি সাহিত্য পত্রিকাও সম্পাদনা করতেন।
জাহানারা আরজুর প্রথম কবিতা ১৯৪৫ সালে অভিভক্ত বাংলায় ‘আজাদ’ পত্রিকার মুকুলের মাহফিলে প্রকাশিত হয়। প্রকৃতির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তিনি মাটি, মানুষ, সমাজ ও পৃথিবীর নানা বিষয়কে তুলে ধরেছেন তার সাহিত্যকর্মে। তার রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে- নীলস্বপ্ন, রৌদ্র ঝরা গান, সবুজ সবুজ অবুঝ মন, আমার শব্দে আজন্ম আমি, ক্রন্দসী আত্মজা, বাদল মেঘে মাদল বাজে প্রভৃতি।
জাহানারা আরজু ১৯৩২ সালের ১৭ নভেম্বর তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ঢাকার মানিকগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সাবেক উপ-রাষ্ট্রপতি ও বিচারপতি এ কে এম নূরুল ইসলামকে বিয়ে করেন। তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলে মো. আশফাকুল ইসলাম হাই কোর্ট বিভাগের বর্তমান বিচারপতি। ছোট ছেলে মোহাম্মদ জাহিনুল ইসলাম একজন প্রকৌশলী। একমাত্র মেয়ে মিনারা জামান একজন অধ্যাপিকা।



