ইফতারে ভাজাপোড়ায় গ্যাস্ট্রিক?

রমজানে সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারের সময় হঠাৎ করে বেশি ভাজাপোড়া বা ঝাল খাবার খেলে অনেকেরই গ্যাস্ট্রিক, পেট ফাঁপা কিংবা বুকজ্বালার সমস্যা বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইফতারের খাবার নির্বাচনেই লুকিয়ে আছে স্বস্তির চাবিকাঠি। সঠিক খাবার বেছে নিলে রোজায় থাকা যাবে সুস্থ ও স্বস্তিতে।
ইফতারে গ্যাস্ট্রিক কমাতে সহায়ক কিছু খাবার—
খেজুর: সুন্নত ও সুস্থতার সমন্বয়
ইফতার শুরুতেই খেজুর খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। খেজুরে প্রাকৃতিক চিনি, আঁশ ও খনিজ উপাদান থাকে, যা দ্রুত শক্তি জোগায় এবং পেটের জন্য তুলনামূলকভাবে সহনীয়। অতিরিক্ত তেল-ঝাল খাবারের আগে ১–২টি খেজুর পাকস্থলীকে প্রস্তুত করে।
কলা: প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিড
কলা পাকস্থলীর অতিরিক্ত অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এতে থাকা পটাশিয়াম গ্যাস্ট্রিকের জ্বালাপোড়া কমাতে কার্যকর। ইফতারে ফলের প্লেটে একটি কলা রাখতে পারেন।
শসা ও তরমুজ: পানিশূন্যতা কমাতে
সারাদিন রোজার পর শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হয়। শসা ও তরমুজে প্রচুর পানি থাকে, যা শরীর ঠান্ডা রাখে এবং অ্যাসিডিটির ঝুঁকি কমায়। ইফতারের সালাদে শসা রাখলে উপকার পাওয়া যায়।
দই: হজমে সহায়ক
দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক উপাদান হজমশক্তি বাড়ায় এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কমাতে সহায়তা করে। ইফতারের পর এক বাটি টকদই বা দই-চিঁড়া খেলে পেট আরাম পায়।
ওটস ও হালকা শস্যজাত খাবার
অতিরিক্ত ভাজাপোড়ার বদলে ওটস, লাল আটার রুটি বা হালকা খিচুড়ি খেলে পেটের ওপর চাপ কম পড়ে। আঁশসমৃদ্ধ এসব খাবার হজমে সহায়ক এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে।
ডাবের পানি: প্রাকৃতিক স্বস্তি
ডাবের পানি শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখে। এটি পাকস্থলীর জ্বালা কমাতে এবং দ্রুত পানিশূন্যতা দূর করতে কার্যকর।
দারুচিনি
অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদানে সমৃদ্ধ দারুচিনি গ্যাস্ট্রিকের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে। চা বা কফিতে সামান্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
যেসব খাবার এড়িয়ে চলা ভালো
ইফতারে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, ঝাল, অতিরিক্ত মশলাযুক্ত ও কার্বনেটেড পানীয় গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। একসঙ্গে বেশি খাবার না খেয়ে অল্প অল্প করে ধীরে ধীরে খাওয়াই উত্তম।
চিকিৎসকদের মতে, ইফতার শুরু করা উচিত পানি ও হালকা খাবার দিয়ে। এরপর নামাজের বিরতি নিয়ে মূল খাবার খেলে হজম ভালো হয়। যাদের দীর্ঘদিনের গ্যাস্ট্রিক সমস্যা আছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা ঠিক করতে হবে। রমজানে ইবাদতের পাশাপাশি সুস্থ থাকাও জরুরি। সচেতন খাদ্যাভ্যাসই পারে ইফতারকে করে তুলতে আরামদায়ক ও পেটবান্ধব।



