বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬
বিবিধ

চলতি মাসে আটবার কেঁপেছে দেশ, বড় দুর্যোগের শঙ্কা?

চলতি মাসে আটবার কেঁপেছে দেশ, বড় দুর্যোগের শঙ্কা?

চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে মাত্র ২৬ দিনের ব্যবধানে আটবার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় দেশজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ বুধবার রাতে মিয়ানমারে উৎপন্ন ৫.১ মাত্রার একটি মাঝারি ভূমিকম্পে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল কেঁপে ওঠে। যদিও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবুও ধারাবাহিক এই কম্পন সাধারণ মানুষের মনে বড় দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি করেছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, রাত ১০টা ৫১ মিনিটে অনুভূত সর্বশেষ কম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১২৯ কিলোমিটার গভীরে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গভীর উৎসস্থলের ভূমিকম্প তুলনামূলক কম ক্ষতিকর হলেও বারবার কম্পন ভূ-অভ্যন্তরের অস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়।

ফেব্রুয়ারির শুরুতেই সিলেটে ৩ মাত্রার মৃদু কম্পনের মধ্য দিয়ে ভূকম্পনের ধারা শুরু হয়। ৩ ফেব্রুয়ারি একই দিনে তিনবার কম্পন অনুভূত হয়—এর মধ্যে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ৪.১ মাত্রা এবং মিয়ানমারে ৫.৯ ও ৫.২ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প ছিল। এরপর ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি সিলেটে আরও দুটি কম্পন এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের ছাতকে ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। সব মিলিয়ে ২৬ দিনে আটবার কেঁপেছে দেশ।

গত নভেম্বরে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে দেশে ১০ জনের মৃত্যু এবং শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার ঘটনা এখনও মানুষের মনে দাগ কেটে আছে। ফলে সাম্প্রতিক কম্পনগুলো বড় বিপর্যয়ের পূর্বাভাস কি না—সে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট ও মাঝারি মাত্রার ঘন ঘন ভূমিকম্প অনেক সময় বড় ভূমিকম্পের পূর্বলক্ষণ হতে পারে। ভূত্বকের নিচে দীর্ঘদিন ধরে শক্তি জমা হয়ে থাকলে তা একসময় বড় আকারে মুক্তি পায়। বাংলাদেশ ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত—যা ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক ছোট কম্পনগুলো ইঙ্গিত করছে যে ভূ-অভ্যন্তরে চাপ সঞ্চিত হচ্ছে।

দেশে ভূমিকম্প মোকাবিলার প্রস্তুতি এখনও পর্যাপ্ত নয়। উদ্ধার তৎপরতা নিয়ে কিছু প্রস্তুতি থাকলেও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন শনাক্তকরণ, কঠোরভাবে বিল্ডিং কোড বাস্তবায়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বড় ঘাটতি রয়েছে। এখনই নগর পরিকল্পনায় কড়াকড়ি, পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা তৈরি এবং নিয়মিত মহড়ার ব্যবস্থা না করলে সম্ভাব্য বড় দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।

ঘন ঘন ভূমিকম্প বড় বিপর্যয়ের নিশ্চিত পূর্বাভাস নয়, তবে এটিকে হালকাভাবে দেখার সুযোগও নেই। সময় থাকতে প্রস্তুতি নেওয়াই হতে পারে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

Advertisements