বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬
স্বাস্থ্য

ইফতারের পর ক্লান্তি নয়, ফিরুক প্রাণশক্তি

tired-woman-sleeping-her-desk-260nw-2241043443

রমজানে সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতার দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তবে ইফতারের পর অনেকেই হঠাৎ ক্লান্তি, অবসাদ বা ঘুমঘুম ভাব অনুভব করেন। কারও কারও আবার কাজের প্রতি আগ্রহও কমে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ অবস্থার পেছনে মূলত দায়ী ইফতারে অতিরিক্ত বা ভারী খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি না পান করা এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস। তবে কিছু সহজ ও স্বাস্থ্যসম্মত নিয়ম মেনে চললে ইফতারের পরও শরীরকে রাখা যায় সতেজ ও কর্মক্ষম।

ইফতারে বেশি খাবার নয়, ভাগ ভাগ করে গ্রহণ করুন

ইফতারে একসঙ্গে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ করবেন না। সারাদিন রোজা থাকার পর হঠাৎ বেশি খাবার খেলে ক্লান্তি তৈরি হতে পারে। যদিও রোজার শেষে ক্ষুধা অনুভূত হয়, তবু খাবার হজমের জন্য পেটে পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। তাই খাবার একবারে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে খান। কয়েক মুহূর্ত পরপর খাবার নিলে শরীর ক্লান্ত হবে না এবং হজম প্রক্রিয়াও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।

ক্যাফেইন কমিয়ে দিন

ইফতারের পরে ক্যাফেইন যুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন, কারণ এটি ঘুমের ধরনকে প্রভাবিত করে, ঘুম আসতে দেরি হয়। যা পরবর্তীতে, ক্লান্তির কারণ হয়ে দাড়ায়। এছাড়া, ক্যাফেইন ডিহাইড্রেশন বাড়ায়, যা ক্লান্তির অন্যতম কারণ হতে পারে। তাই আজ থেকেই ইফতারের পরে ক্যাফেইন যুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন। চায়ের পরিবর্তে লেবু-পানি বা হারবাল টি পান করা ভালো।

Advertisements

পর্যাপ্ত পানি পান করুন

সারাদিন রোজা রাখার ফলে স্বাভাবিকভাবেই আমাদের শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। ইফতারের পর প্রচুর পানির দরকার হয় শরীরের। তাই বিভিন্ন ফল, ফলের রস, শরবত, ডাবের পানি ইত্যাদি খান। ভাজাপোড়া খাবার খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে আনতে হবে। এতে শরীরে পানির ঘাটতি দূর হবে। সেইসঙ্গে দূর হবে ক্লান্তিও।

হালকা হাঁটাহাঁটি করুন

ইফতারের পর একদমই বসে না থেকে সামান্য হাঁটাহাঁটি করুন। এটি পরিপাকক্রিয়াকে সাহায্য করবে এবং শরীরের অলসতা দূর করবে। অন্তত ১০-১৫ মিনিট ধীরগতিতে হাঁটলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয় এবং অলসভাব দূর হয়।

অতিরিক্ত মিষ্টি ও শর্করা এড়িয়ে চলুন

কোল্ড ড্রিংকস ও অতিরিক্ত চিনি সমৃদ্ধ শরবত এড়িয়ে চলুন, এগুলো তাৎক্ষণিক প্রশান্তি দিলেও পরে ক্লান্তি বাড়ায়। এছাড়া, বেশি চিনি খেলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বাড়ে এবং পরে হঠাৎ করে কমে যায় , যা শরীরে ক্লান্তি সৃষ্টি করে।অতিরিক্ত ভাত, পরোটা, পিঠা বা মিষ্টিজাতীয় খাবারও এড়িয়ে চলুন। খাবারে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট যেমন: ওটস, ব্রাউন রাইস, ডাল বা সবজির পরিমাণ বাড়ান। এগুলি সিম্পল কার্বোহাইড্রেটের তুলনায় আরও অধিক পুষ্টিকর এবং ধীরে হজম হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের ব্যালেন্স বজায় রাখতে সাহায্য করে।

পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন

অনিয়মিত ঘুম বা কম ঘুম হলে ইফতারের পর দ্রুত ক্লান্তি ভর করতে পারে। রাতে পর্যাপ্ত ঘুমানোর চেষ্টা করুন এবং দিনে অল্প সময় বিশ্রাম নিন। ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত মোবাইল বা টিভি দেখা এড়িয়ে চলুন, এতে ঘুমের গুণগত মান ভালো থাকবে।

শ্বাস-প্রশ্বাসের হালকা ব্যায়াম করুন

ইফতারের পর ৫-১০ মিনিট শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন, এতে শরীর ও মন সতেজ থাকবে। গভীর শ্বাস নিলে শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ে, যা ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে।

নামাজ পড়ে নিন

ইফতারের শুরুতে অল্প খাবার যেমন- একটি খেজুর ও একগ্লাস পানি খেয়ে মাগরিবের নামাজ পড়ে নিন। এতে নামাজ সময়মতো আদায় হয়ে যাবে এবং ততক্ষণে আপনার পেটও খাবার হজমের জন্য তৈরি হবে।

রমজানে ইফতারের পর ক্লান্তি এড়াতে খাবার নির্বাচনে সচেতন থাকা, পর্যাপ্ত পানি পান করা, হালকা ব্যায়াম করা ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এই অভ্যাসগুলো মেনে চললে ইফতারের পরও আপনি কর্মক্ষম থাকতে পারবেন।

Advertisements