সেহরির পর নিয়ত না করলে রোজা হবে?

রোজা রাখা ইসলামে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। অনেক মানুষ মনে করেন যে রোজার নিয়ত শুধু মুখে উচ্চারণ করলেই হবে আবার কেউ ভাবেন সেহরির পর আলাদা করে নিয়ত করা জরুরি। তবে ধর্মীয় ব্যাখ্যা বলছে, নিয়ত করাটা মনের ইচ্ছা ও সিদ্ধান্তকেই বোঝায় এবং তা সেহরির সঙ্গে ঘুম থেকে উঠে সামগ্রিকভাবে রোজা শুরু হওয়া হিসেবেই গণ্য হয়।
বিশেষজ্ঞ ফুকাহায়ে কেরাম (ইসলামিক জীবনবিধি নির্ধারণকারী) মতে—রোজা রাখার জন্য রোজার নিয়ত জরুরি। তবে রমজান মাসে শেষ রাতে রোজা রাখার জন্য ঘুম থেকে ওঠা ও সেহরি খাওয়াটাই রোজার নিয়তের অন্তর্ভুক্ত। আলাদাভাবে আর কোনো নিয়তের প্রয়োজন নেই।
তবে কেউ আলাদাভাবে নিয়ত করতে চাইলে করতে পারবেন। কিন্তু নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা জরুরি নয়। তাই কেউ মুখে নিয়ত না করলেও তার রোজাগুলো আদায় হয়ে যাবে। আরবিতেও নিয়ত করা আবশ্যক নয়। (আল-বাহরুর রায়েক: ২/৪৫২; আল-জাওহারুতুন নাইয়্যিরাহ : ১/১৭৬)
বাংলাদেশে আরবিতে রোজার একটি নিয়ত পাঠ প্রচলিত থাকলেও এটি হাদিস ও ফিকাহের কোনো কিতাবে বর্ণিত হয়নি। তবে কেউ চাইলে পড়তে পারেন। (তবে জেনে রাখা উচিত যে, নিয়ত পড়ার চেয়ে নিয়ত করা গুরুত্বপূর্ণ।)
রোজার নিয়তের বাংলা উচ্চারণ
নাওয়াইতু আন আছুমা গাদান, মিন শাহরি রমাদানাল মুবারাক; ফারদাল্লাকা ইয়া আল্লাহু, ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নিকা আনতাস সামিউল আলিম।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র রমজানের রোজা রাখার নিয়ত করছি, যা আপনার সন্তুষ্টির জন্য ফরজ করা হয়েছে। অতএব, আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।



