বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
নারী

রাজনীতিতে নারীর প্রান্তিকতা: ৩০০ আসনে জয়ী মাত্র ৭

women-mp-20260213122137

দেশের জাতীয় রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন চরম সংকটের মুখে পড়েছে। সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি সাধারণ আসনের মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মাত্র সাতজন নারী প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ‘সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি’। এই বিশাল রাজনৈতিক শূন্যতাকে গণতন্ত্রের জন্য এক অশনিসংকেত হিসেবে দেখছে মানবাধিকার ও নারী সংগঠনগুলোর প্ল্যাটফর্মটি।

গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সুফিয়া কামাল ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত এক সভায় ৭১টি নারী ও উন্নয়ন সংগঠনের এই প্ল্যাটফর্মটি তাদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরে। সভায় বক্তারা বলেন, নির্বাচনে নারীদের এই নগণ্য সংখ্যা কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং এটি দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছার অভাব এবং পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ।

মনোনয়নে অনীহা ও সংখ্যানুপাত

সভায় জানানো হয়, প্রতিটি রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও মনোনয়নের ক্ষেত্রে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। এবারের নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট নারী প্রার্থীর হার ছিল মাত্র ৪.২৪ শতাংশ। সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির মতে, বড় দলগুলো যোগ্য নারী কর্মীদের মূল্যায়ন না করায় সরাসরি নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণের পথ রুদ্ধ হচ্ছে।

সভায় উত্থাপিত মূল বিষয়গুলো

রাজনৈতিক দলগুলো মুখে নারী ক্ষমতায়নের কথা বললেও বাস্তব ক্ষেত্রে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।নির্বাচনে কালো টাকা ও পেশিশক্তির আধিপত্য নারীদের জন্য লড়াইয়ের মাঠকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
এত বাধা ও প্রতিকূল পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও যে সাতজন নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের কমিটির পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হয়।

গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার আহ্বান

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করা হয়। কমিটির নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন যে, সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো নারী সমাজের দীর্ঘদিনের দাবি আমলে নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জেন্ডার-সংবেদনশীল পরিবেশে রূপান্তর করবে।

সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নারীর অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তাই আগামী দিনে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে দলগুলোকে আরও আন্তরিক ও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ক্ষমতানারীরাজনীতি