বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
জীবনযাপন

একাকিত্বের সেরা সঙ্গী- আপনার পোষা বিড়াল

বিড়াল

একাকিত্বের এই যুগে অনেকেই খোঁজেন এক নির্ভরযোগ্য সঙ্গী, যে শুধু ভালোবাসা দেয় না সেই সথে মানসিক প্রশান্তি এবং শারীরিক সুস্থতাও নিশ্চিত করে।

পোষা বিড়াল ঠিক তেমনই এক সঙ্গী। একটি শান্ত বিকেলে জানালার ধারে বসে থাকা একাকী মানুষের কোলে উঠে বিড়ালের গরগর শব্দ মুহূর্তে মনের ভার লাঘব করে।

এটি কোনো কল্পকাহিনী নয় বরং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত বাস্তবতা। ছোট্ট এই প্রাণীটির সঙ্গে সময় কাটানো মানে শুধু আনন্দ নয় বরং এটি মানুষের জীবনে এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবও ফেলে। তারা একদিকে সঙ্গ দেয়, অন্যদিকে নিঃসঙ্গতা ও উদ্বেগ কমায়। বিড়ালের খুনসুটি, আচরণ এবং আচমকা মজার কাণ্ড আমাদের মুখে হাসি ফোটায়।

অন্য একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বিড়ালপোষা মানুষ অন্যদের তুলনায় কম একাকিত্ব অনুভব করেন, বিড়ালের স্বভাব-চরিত্র শান্ত বা বন্ধুত্বপূর্ণ হলে মানুষ তাদের প্রতি আরও বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন।

শারীরিক দিক থেকেও বিড়ালের সঙ্গে সময় কাটানো উপকারী। বিড়ালের সঙ্গে খেলা করলে শরীরের চাপ হরমোন বা কর্টিসল হ্রাস পায়, হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং রক্তচাপ স্থিতিশীল থাকে। গবেষকরা বলছেন, দিনে মাত্র ১০-১৫ মিনিট বিড়ালের সঙ্গে খেললেই শরীরের ছন্দ ফিরে আসে।

এমনকি বিড়ালের গরগর শব্দের কম্পনও আমাদের স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই শব্দের কম্পন ২৫ থেকে ১৫০ হার্টজের মধ্যে থাকে যা বিশেষভাবে ২৫ থেকে ৫০ হার্টজ ফ্রিকোয়েন্সিতে হাড় ও পেশি পুনর্গঠনে সহায়ক। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এই কম্পন হাড়ের দ্রুত সেরে ওঠায় সাহায্য করতে পারে। অর্থাৎ বিড়াল যখন গরগর করে, তখন তারা শুধু নিজেদের আরাম করছে না – আমাদের শরীরেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বিড়ালের সঙ্গে নিয়মিত সময় কাটালে মানুষ আরও সংবেদনশীল, ধৈর্যশীল এবং কল্পনাপ্রবণ হয়ে ওঠে। তারা সামাজিকভাবে আরও সক্রিয় হতে শেখে এবং একাকিত্বের অনুভূতি কমে। শিশুদের জন্যও পোষা বিড়াল বন্ধুত্ব ও দায়িত্বশীলতা শেখার মাধ্যম হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বব্যাপী গবেষণায় দেখা গেছে, পোষা প্রাণীর সঙ্গে মানসিক সংযোগ মানুষের জন্য আবেগগত স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি সমীক্ষা অনুসারে, প্রায় ৪৯ মিলিয়ন পরিবারে বিড়াল আছে এবং এরা পরিবারের সদস্যদের মানসিক সুস্থতায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে একাকিত্ব, উদ্বেগ এবং চাপ মোকাবিলায় বিড়ালের প্রভাব বেশ লক্ষ্যণীয়।

এছাড়া ‘ইউনিভার্সিটি অফ কলোরাডো বউল্ডার’য়ের করা গবেষণায় প্রমাণ মিলিছে যে- হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও বিড়ালের ভূমিকা রয়েছে। বিড়ালপোষা ব্যক্তিদের হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

সব মিলিয়ে, বিড়াল পোষা কেবল ভালোবাসা বা সঙ্গ নয়, বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত স্বাস্থ্যকর অভ্যাস।

Advertisements