গাজায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে ইসরায়েলি হামলা, নিহত ১১

গাজায় নতুন করে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। রোববার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ পায়।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, হামাসের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়ায় তারা এই হামলা চালিয়েছে। আইডিএফের দাবি, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত এলাকায় একটি টানেল থেকে সশস্ত্র যোদ্ধারা বেরিয়ে আসার পর তাদের লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।
চিকিৎসক ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, উত্তর গাজার বেইত হানুন এলাকায় তাঁবু শিবিরে ইসরায়েলি বাহিনী বিমান হামলা চালায়। এতে চারজন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে দক্ষিণের খান ইউনিসে আরেকটি হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তারা বলেছেন, হামাসের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে এই হামলা করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, গত কয়েক ঘণ্টায় বেইত হানুন এলাকায় হামাস ‘হলুদ রেখা’ অতিক্রম করে ইসরায়েলি সশস্ত্র সৈন্যদের (আইডিএফ) কাছে এসেছে। এটি যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, হামলাটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক এবং আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, হামাস প্রায় ছয়বারেরও বেশি বার যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। এটি প্রমাণ করে, হামাস পরিকল্পিতভাবে চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সৈন্যদের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে।
যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকরের পর ইসরায়েল ও হামাস বারবার একে অপরের বিরুদ্ধে লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে। গতকাল শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, তারা চুক্তি অনুযায়ী উত্তর গাজায় ভূগর্ভস্থ টানেল ধ্বংসের কাজ অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া উত্তর গাজা উপত্যকায় তারা আইডিএফ কর্মীদের কাছে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে।
সেনারা আরও জানিয়েছে, বেশ কয়েকজন বন্দুকধারীকে একটি সুড়ঙ্গ থেকে বের হয়ে হলুদ রেখার পাশের একটি ধ্বংসস্তূপের নিচ দিয়ে প্রবেশ করতে দেখা গেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চুক্তি কার্যকরের পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৬০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, একই সময়ে হামাসের হামলায় তাদের চার সেনা নিহত হয়েছেন।



