বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
বিনোদন

রূপে বিশ্বজয়ী কিন্তু প্রেমে পরাজিত ‘মধুবালা’

Madhubala-660×495

রূপে বিশ্বজয় করলেও প্রেমে পরাজিত—এই বৈপরীত্যই মধুবালাকে করেছে বলিউড ইতিহাসের এক চিরন্তন ট্র্যাজিক নায়িকা। তার হাসি আজও পর্দায় ঝলমল করে, কিন্তু সেই হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকে অপূর্ণ ভালোবাসা ও না-পাওয়া জীবনের দীর্ঘশ্বাস।

১৯৩৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন মমতাজ জাহান দেহলভি। পরে অভিনেত্রী দেবিকা রাণী তার নাম রাখেন ‘মধুবালা’। অতুলনীয় সৌন্দর্যের জন্য ভক্তরা তাকে তুলনা করতেন রোমান প্রেমের দেবী ভেনাসের সঙ্গে।

শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় শুরু করেন মধুবালা। মাত্র ১৪ বছর বয়সে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ ‘নীল কমল’ ছবিতে রাজ কাপুরের বিপরীতে। এরপর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ৬৬টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। তার উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে ‘মুঘল এ আজম’, ‘মহল’, ‘চালতি কা নাম গাড়ি’, ‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস ৫৫’। তবে অভিনয়ের চেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল তার অসাধারণ সৌন্দর্য।

১৯৫১ সালে ‘তারানা’ ছবিতে কাজের সময় তৈরি হয় দিলীপ কুমারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা। বন্ধুত্ব থেকে প্রেম, এমনকি বিয়ের সিদ্ধান্তও ছিল। কিন্তু বাবার আপত্তিতে সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত দিলীপ কুমার বিয়ের জন্য দুটি শর্ত দেন, পরিবার ছাড়তে হবে এবং অভিনয় ছেড়ে দিতে হবে। অভিনয় ছাড়তে রাজি হলেও পরিবার ছাড়ার শর্ত মানেননি অভিনেত্রী। সেখানেই শেষ হয় সেই সম্পর্ক।

পরে কিংবদন্তি গায়ক কিশোর কুমারকে বিয়ে করেন তিনি। ১৯৫৮ সালে ‘চলতি কা নাম গাড়ি’ ছবির সেটে তাদের পরিচয়।

পরিচালক কিদার শর্মা তার অভিনয় দেখে বলেছিলেন, রাজ কাপুরের চেয়েও এগিয়ে তিনি। কমল আমরোহি পরিচালিত ‘মহল’ ছবিতে বড় সাফল্য পায় মধুমিতা। এমনকি বক্স অফিসে ভালো ব্যবসা করে সিনেমাটি। কিন্তু কয়েকটি ছবি ফ্লপ হওয়ায় তাকে ‘বক্স অফিস পয়জন’ বলা শুরু হয়।

১৯৫০ সালে রঞ্জিত স্টুডিওস প্রযোজিত ছবিতে পারিশ্রমিক ছাড়াই কাজ করেন মধুবালা। কৃতজ্ঞতা থেকে। তবে ছবি ফ্লপ হতেই শুরু হয় অপপ্রচার। পরে পি. এল. সন্তোষী পরিচালিত ‘নিরালা’র শুটিংয়ে অসুস্থতার কারণে পুলে নামতে অস্বীকার করলে তা নিয়েও বিকৃত প্রচার ছড়ায়।

মানসিক চাপ ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে একসময় নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কিত হয়ে পড়েন। তৎকালীন হোম মিনিস্টার–এর উদ্যোগে তিনি লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিভলভার ও সশস্ত্র নিরাপত্তা পান। যা সে সময়ের জন্য ছিল নজিরবিহীন।

কিন্তু থামেনি জীবনের লড়াই । জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত মধুবালা দীর্ঘদিন যন্ত্রনা সহ্য করে ১৯৬৯ সালে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

Advertisements