Skip to content

২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | রবিবার | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

নারী পরিবারকে দেয় পুরো সময়, পুরুষ দেয় দেড় ঘণ্টা

নারীদের জীবনে যে সামাজিক চাপ থাকে বিয়ে করার, সন্তান জন্ম দেওয়ার। সেগুলো নিয়ে একটা মানসিক চাপ তৈরি হয় তাদের মাঝে। প্রায়ই তারা নিজেকে ঠাহর করার মতো সময়টুকু পায় না।

এজন্য যা-যা হয়, সেগুলো হলো, নারীরা পরিচয় সংকটে ভোগে, নিজের ক্যারিয়ারের চেয়ে বেশি গুরত্বপূর্ণ মনে করে পরিবার গড়ে তোলাকে, রেস্কিউয়ার সিন্ড্রোমে আক্রান্ত হয়ে যায় নারীরা। এছাড়া মানসিকভাবে প্রচণ্ড বিপর্যস্তও হয়ে যায় অনেক নারী।

কারণ এতকিছু করতে গিয়ে নিজের জন্য সময় পায় না নারীরা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সমীক্ষা অনুযায়ী, বিনোদনমূলক কাজের ক্ষেত্রে নারীরা আড়াই ঘণ্টা সময় পার করেন। এর মধ্যে টেলিভিশন দেখা, ইন্টারনেট ব্রাউজিং অন্তর্ভুক্ত।

সময়ের ব্যবহার নিয়ে সর্বশেষ সমীক্ষায় জানা যায়, নারীরা পুরুষের তুলনায় আট গুণ বেশি সময় দেয়। একজন নারী ২৪ ঘণ্টায় সাড়ে এগারো ঘণ্টাই পরিবারকে সময় দেয়, সেখানে পুরুষ দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় দেয় পরিবারকে৷

নারীরা যখন পরিবার ও সমাজের চাপে বিয়ে করে ফেলে, তখন নারীদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ততা আসে নিজেকে নিয়ে। কোনো কিছুই তাদের সুখী করতে পারে না। চার দেয়ালে বন্দি থাকার অনুভূতি একসময় অনেক ভারীই হয়ে যায়। তখন জীবন যাপন অনেক বেশি বিষাদময় হয়ে পড়ে।

নারীরা সংসারের জন্য যত কাজ করে, সে জন্য কোনো স্বীকৃতি দেওয়া হয় না৷ মজুরির কথা তো অনেক দূরের বিষয়। তাছাড়া নারী বলে সংসারে বেশি সময় দেওয়া, পরিবারের দেখাশোনা করা; এগুলোর জন্য নারীর প্রতি কোনো কৃতজ্ঞতা বোধও দেখা যায় না৷ কারণ নারীদের নারী হওয়ার জন্য এগুলো এমনিতেই করার কথা। কিন্তু পুরুষের ক্ষেত্রে এটার ঠিক বিপরীতটাই হয়৷ পুরুষেরা যেন সংসারের কোনো কাজে অংশগ্রহণ করাটা খুবই অস্বাভাবিক৷

সংসারের পেছনে সময় ব্যয় করার ক্ষেত্রে পুরুষকে একটু বেশিই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। যেন সংসারটা নারী-পুরুষ দুজনের একসঙ্গেই নয়।

নারীরা যে সংসারের কাজে বেশি সময় ব্যয় করে আসছে,ত সেটা নতুন নয়। কিন্তু নারীরা কর্মজীবী হওয়ার পরেও তাদের একটা দায়িত্ব থেকেই যায় সংসার ও পরিবার সামলানোর। এটা একটা সামাজিক ও পারিবারিক চাহিদা৷

সামাজিক অনুষ্ঠানে আশেপাশের মানুষেরা এসে খোঁজে অমুক বাড়ির বউ কোথায়, অমুক বাড়ির মেয়ে কোথায়। যদি তারা না থাকে, তাহলে নানা রকম কুমন্তব্য করেই ফেলে। কিন্তু কোনো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে পুরুষ উপস্থিত না থাকলে লোকে প্রাথমিকভাবে ভ্রূ কুচকে তাকালেও পরে মেনে নেয় হয়তো পুরুষটির কোনো গুরুত্বপূর্ণ অফিসের কাজ আছে৷

একটা এক প্রকার স্বীকৃতি অস্বীকৃতিরই বিষয়৷ এই কারণে নারীরা যতই কাজ করুক। পরিবারে সময় তারা বেশিই দেয়। কিন্তু এ সমাজ তবু নারীদের সমান সুযোগ দেয় না। নারীদের বিশেষ কিছু সুবিধা দিয়েই সমাজ ও প্রশাসন খালাস।