Skip to content

৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | শুক্রবার | ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

গণপরিবহনে যৌন-হয়রানি বন্ধ হোক

জান্নাতুল-যূথী
জান্নাতুল-যূথী

গণপরিবহনে যৌন-হয়রানি নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবু কিছুতেই যেন নারীকে নিরাপদ করতে কর্তৃপক্ষের টনক নড়ছে না। তবে কি নারীকে যৌন-হয়রানির শিকারে পরিণত করা হবে বারবার? ডিজিটাল যুগে এসেও কেন নারী আজও শুধু একশ্রেণির বিকৃত মানসিকতার শিকার হচ্ছে?

নারীর নিরাপত্তা আর চাঁদে গমন; এখন বাঙালির কাছে দুটোই স্বপ্নের মতো। কিন্তু এই দুই স্বপ্নই যে বাস্তব করে তোলা যায়, তা কিন্তু সবারই জানা। মহাকাশে গমন সবার সাধ্যের বাইরে হলেও নারীর নিরাপত্তা কিন্তু সবার সামর্থ্যের মধ্যেই। অর্থাৎ সৎচেষ্টা থাকলে অবশ্যই নারীর প্রতি অহিংস আচরণকে রুখে দেওয়া সম্ভব। তার জন্য পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পারিবারিক পর্যায় থেকে সন্তানকে সুশিক্ষা দিতে হবে। শুধু পুথিগত বিদ্যে গিলে আর উগরে দিয়ে মানুষ করে না তুলে পরিবারগুলোকে দায়িত্ব নিতে হবে নিজ সন্তান যেন নারীকে মাংসপিণ্ড না ভেবে মানুষ হিসেবে গণ্য করতে শেখে। নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ওঠে। নিজের ঘর থেকে যদি নারীকে শ্রদ্ধা করতে শেখে সন্তানেরা, তবেই বাইরের নারীটির প্রতিও সচেতন হবে। স্নেহশীল, শ্রদ্ধাশীল হয়ে উঠবে।

যদি পারিবারিক পর্যায় থেকে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ না করা হয়, তবে সত্যি জাতির মনুষ্যত্ববোধ ফিরিয়ে আনা দায়। জাতির জন্য দুর্বিষহ দিন অপেক্ষা করছে আরও। পুস্তকের মাঝে সীমাবদ্ধ করে রাখতে রাখতে সন্তানদের সঠিক শিক্ষা দেওয়ার সময়ই যেন পাচ্ছে না আজকাল পরিবার। প্রতিযোগিতার লড়াইয়ে কে ফাস্ট হয়ে পাশের বাড়ির অমুকের ছেলে বা মেয়েকে ডিঙিয়ে যাবে, এটাই যেন নেশা। কিন্তু একবার এই পরিবারগুলো সন্তান কতটা সঠিক মনুষ্যত্ব সম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠছে, তা ধর্তব্যের মধ্যেও আনছে না। ফলে শিক্ষার খাতায় ভালো রেজাল্টধারী হলেও জীবনের খাতায় মহাপশুতে রূপান্তরিত হচ্ছে বেশিরভাগই। ফলে সর্বোচ্চ তাগিদ দিতে হবে পরিবারকে। যেন তারা একজন মানুষকে পরিণত করে গড়ে তুলতে পারেন, কোনো মানুষ রূপী পশুকে নয়।

গণপরিবহন থেকে শুরু করে পথে যৌন-হয়রানি কমাতে পরিবারের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্থান অধিকার করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সন্তানেরা অনেক সময় বাবা-মাকে ততটা মূল্যায়ন না করলেও একজন শিক্ষককে অনেকটা শ্রদ্ধা করে। যদিও সমাজ পরিবর্তন হয়েছে। এর দায়ও কিন্তু পরিবারের। আজকাল বহুভাবেই শিক্ষককে লাঞ্ছিত হতে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু কিছু দিন আগেও কিন্তু সন্তানেরা এতটা বিগড়ে যাওয়া স্বভাবের ছিল না। তবে আজ কেন তাদের মস্তিষ্কে নানারকম অপচিন্তা, অপরাধ করার প্রবণতা বাড়ছে?

যুগের সঙ্গে হাতে এসেছে স্মার্টফোন। ফোনের অপব্যবহার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সৃজনীশক্তিকে অনেকটাই ধ্বংস করে দিচ্ছে। ভালোর চেয়ে মন্দকে তারা বেশি গ্রহণ করছে। বইয়ের সঙ্গে সংযোগ কমে গিয়ে তারা মোবাইলফোন, ল্যাপটপে আসক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে সারাক্ষণ প্রযুক্তির ব্যবহার তাদের মস্তিষ্কের প্রসারতা বৃদ্ধি না করে সংকীর্ণ করে তুলছে। আত্মকেন্দ্রিক করে তুলছে। পরোপকারী মনোবৃত্তি এখন সন্তানদের মধ্যে খুব একটা চোখেই পড়ে না। কারণ পৃথিবীর যান্ত্রিক নিয়মে সবকিছু আমার, আমিই সব; এই বদ্ধ নিয়মে আবদ্ধ হয়ে গেছে৷ এই ধারণা থেকে মুক্তি দিতে সন্তানদের ভালো ভালো বই পড়ার অভ্যেস গড়ে তুলতে হবে। যথাযথ পরিবেশে বড় করতে হবে। দাম্পত্য সম্পর্কের টানাপড়েন সন্তানের সৃজনীশক্তি কমাতে এবং বিক্ষিপ্ত করে তুলতে পারে। ফলে সেদিকে মা-বাবাকে নজরদারি বাড়াতে হবে। সর্বোপরি অবসর সময়ে খেলাধূলার যথোপযুক্ত মাঠ, প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। সাংস্কৃতিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

গণপরিবহনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ব্যবস্থা করতে হবে। যেন কেউ নিপীড়নের শিকার হলে দ্রুত শাস্তির আওতায় আনা যায়। নারীর জন্য আলাদা গণপরিবহনের ব্যবস্থা করতে হবে। পাবলিক বাসে নারীর জন্য বরাদ্দ সিট যেন কোনোভাবেই পুরুষের দখলে না যায়, সেজন্য বাসকর্তৃপক্ষকে কড়া নজরদারিতে রাখতে হবে। নারীর প্রতি যেখানে অন্যায়, সেখানেই আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে। পুলিশ-প্রশাসনকে সর্তক থাকতে হবে। আইনের শাসন জোরদার হলে অনেকটাই সমাধান হবে। এছাড়া জরুরি সেবা পেতে ৯৯৯-এর মতো আরও এমারজেন্সি সেন্টার চালু করতে হবে। কোনোরকম অপরাধকে প্রশ্রয় না দিয়ে শাস্তির বিধান করতে হবে। সর্বোপরি জনগণকেও সচেতন হতে হবে। একজন নারী অপদস্ত হলে, সমস্যার সম্মুখীন হলে তার পাশে দাঁড়িয়ে সমস্যাকে প্রতিহত করার চেষ্টা করার তাগিদ গড়ে তুলতে হবে।