বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬
জীবনযাপন

জেন-জি প্রজন্মের নতুন আসক্তি কি এই ‘লিটল ট্রিট’?

220-SM712323 (1)

মানসিক চাপ, ক্লান্তি বা একঘেয়েমি সবকিছুর মাঝেই জেন-জি প্রজন্ম খুঁজছে ছোট ছোট আনন্দ। এক কাপ দামি কফি, প্রিয় কোনো কসমেটিকস, বাবল টি কিংবা হঠাৎ করা অনলাইন শপিং। এই ছোটখাটো খরচকেই তারা বলছে ‘লিটল ট্রিট’। নিজের মন ভালো রাখতে নিজেকেই উপহার দেওয়ার এই প্রবণতা এখন জেন-জিদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠছে।

কী এই ‘লিটল ট্রিট’ সংস্কৃতি?

এই সংস্কৃতিতে বড় কোনো অর্জনের অপেক্ষা নেই। দিনের শেষে নিজেকে খুশি করতে একটি স্ন্যাকস, নতুন লিপস্টিক কিংবা ফুড ডেলিভারি সবই ‘লিটল ট্রিট’। সাময়িক হলেও এসব জিনিস মানসিক চাপ কমায়। এমনটাই বিশ্বাস তরুণদের।

জরিপে যা উঠে এসেছে

ব্যাংক অব আমেরিকার এক জরিপ বলছে জেন-জি প্রজন্মের অনেকেই মাসে কয়েক শ ডলার এভাবে খরচ করছে। প্রায় ৬০ শতাংশ তরুণ স্বীকার করেছে। এই অভ্যাস তাদের অতিরিক্ত ব্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আবার ৫৭ শতাংশ তরুণ জানায় তারা অন্তত সপ্তাহে একবার নিজেকে কিছু না কিছু কিনে দেয়। যদিও তাদের আয় সীমিত।

আগের প্রজন্মের সঙ্গে পার্থক্য

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজেকে পুরস্কৃত করার ধারণা নতুন নয়। তবে জেন-জি প্রজন্ম এটিকে ভিন্নভাবে নিয়েছে। বেবি বুমাররা বড় সাফল্যের পর গাড়ি বা ভ্রমণে টাকা খরচ করত। জেন-এক্সরা পার্টি বা সামাজিক আড্ডায় স্বস্তি খুঁজত। আর জেন-জি প্রজন্ম প্রতিদিনের জীবনে ছোট ছোট খরচের মধ্যেই আনন্দ খুঁজে পাচ্ছে।

প্রযুক্তি বাড়িয়ে দিয়েছে এই অভ্যাস

অনলাইন শপিং, ফুড ডেলিভারি ও সাবস্ক্রিপশন সার্ভিস এই প্রবণতাকে আরও সহজ করেছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, জেন-জি প্রজন্ম জেন-এক্সের তুলনায় অনেক বেশি নিয়মিত এসব সেবা ব্যবহার করছে। এক ক্লিকে অর্ডার। এই সুবিধাই ‘লিটল ট্রিট’কে হাতের নাগালে এনে দিয়েছে।

কেন এত প্রয়োজন ছোট আনন্দ?

নিজেকে পুরস্কৃত করলে মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসৃত হয়। যা সাময়িক ভালো লাগা তৈরি করে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মহামারি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তার মধ্যে বড় হওয়া জেন-জি প্রজন্মের কাছে এই ছোট আনন্দগুলো জীবনের ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার উপায় হয়ে উঠেছে। গবেষণায় দেখা যায় অনেক তরুণই ব্যক্তিগত আনন্দের খরচকে অন্যান্য আর্থিক লক্ষ্যের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়।

সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বস্তুগত পুরস্কারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়া ঝুঁকিপূর্ণ। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, সাময়িক স্বস্তি দিতে গিয়ে যদি দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক চাপ তৈরি হয়। তাহলে সেটিই নতুন মানসিক সমস্যার কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিজেকে আনন্দ দেওয়া খারাপ নয়। তবে তা হতে হবে পরিকল্পিত ও নিয়ন্ত্রিত। ছোট খরচগুলো আলাদাভাবে তেমন মনে না হলেও যোগ হতে হতে বছরে বড় অঙ্কে দাঁড়াতে পারে। তাই খরচের লাগাম হাতে রাখাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

Advertisements