বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬
বিবিধ

স্বামীকে নির্যাতন-যৌতুক দাবি, স্ত্রীকে কারাগারে পাঠালেন আদালত

IMG_4077

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে স্বামীর দায়ের করা যৌতুক নিরোধ আইনের মামলায় মোছা. তানিয়া খাতুন (২২) নামে এক নার্সকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে বালিয়াকান্দি আমলি আদালতে জামিন আবেদন করলে তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফ হোসেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা।

তানিয়া খাতুন রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের খালকুলা গ্রামের মোহন মল্লিকের মেয়ে। তিনি পেশায় একজন নার্স এবং বর্তমানে রিলায়েন্স জেনারেল অ্যান্ড রেনাল হাসপাতালে কর্মরত। তার স্বামী মো. সাখাওয়াত হোসেন সোহান রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে এবং পেশায় সাংবাদিক।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ৫ লাখ টাকা দেনমোহরে সাখাওয়াত হোসেন সোহানের সঙ্গে তানিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় সাখাওয়াতের পরিবারের পক্ষ থেকে তানিয়াকে স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন উপহার দেওয়া হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বিয়ের পর তানিয়া ওই স্বর্ণালংকার বিক্রি করে দেন এবং স্বামীর কাছে আরও ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি স্বামীকে মানসিক নির্যাতন ও তালাকের হুমকি দিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে পারিবারিকভাবে, স্থানীয় সালিশ এবং লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে একাধিকবার আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তানিয়া টাকা ছাড়া সংসারে ফিরতে অস্বীকৃতি জানান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গত ২২ জানুয়ারি স্বামী সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে বালিয়াকান্দি আমলি আদালতে ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় সি.আর. মামলা নং-৪০/২৬ দায়ের করেন।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করলে তানিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

বাদীপক্ষের আইনজীবী গোলাম মোস্তফা জানান, গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পর তানিয়া মঙ্গলবার আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তবে মামলার অভিযোগের বিষয়ে তানিয়ার পক্ষের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

Advertisements