সংগ্রাম পেরিয়ে সাফল্য: অভিনেত্রী বিদ্যা বালানের গল্প

সংগ্রাম, প্রত্যাখ্যান আর নিজের ওপর অটল বিশ্বাস—এই তিনের সমন্বয়েই গড়ে উঠেছে অভিনেত্রী বিদ্যা বালানের অভিনয়জীবন। ২০০৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘পরিণীতা’ রাতারাতি বদলে দিয়েছিল তার ভাগ্য। আজ ১ জানুয়ারি ৪৭ বছরে পা দিলেন বলিউডের অন্যতম শক্তিশালী এই অভিনেত্রী।
ফিল্মি কোনো পারিবারিক পটভূমি ছাড়াই অভিনয়ের জগতে পা রাখেন বিদ্যা বালান। অভিনয়জীবন শুরু করেছিলেন টেলিভিশনে। তবে তার প্রথম টিভি শো ‘লা বেলা’ অল্প সময়ের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সিনেমায় সুযোগের খোঁজে দীর্ঘদিন লড়াই করতে হয় তাকে।
সংগ্রামের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে এক সাক্ষাৎকারে বিদ্যা বলেছিলেন, নন-ফিল্মি পরিবার থেকে আসায় অভিনয়ের জগতে এগোনোর পথ সম্পর্কে তার কোনো ধারণা ছিল না। তবু অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্নে অটল ছিলেন তিনি। পরিবারের সমর্থন থাকলেও অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তার সময় কম ছিল না।
বিদ্যা জানান, দক্ষিণ ভারতে টানা তিন বছর ধরে কেবল প্রত্যাখ্যানই পেয়েছেন তিনি। এমন দিনও গেছে, যখন কান্না করতে করতে ঘুমিয়েছেন। কিন্তু পরদিন আবার নতুন আশায় উঠে দাঁড়িয়েছেন। নিজেকে ব্যস্ত রাখতে একসময় মাস্টার্স কোর্সেও ভর্তি হন তিনি, তবু অভিনয়ের চেষ্টা ছাড়েননি।
শেষ পর্যন্ত সেই অপেক্ষার অবসান ঘটে ‘পরিণীতা’ ছবির মাধ্যমে। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই ছবির মাধ্যমেই পরিচালনায় আত্মপ্রকাশ করেন প্রয়াত পরিচালক প্রদীপ সরকার। ছবিটি মুক্তির পর দর্শক ও সমালোচক—দু’পক্ষের প্রশংসা কুড়ান বিদ্যা।
‘পরিণীতা’র সাফল্যের পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি বিদ্যা বালানকে। এরপর ‘দ্য ডার্টি পিকচার’–এর মতো ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন বলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী নারী অভিনেত্রী হিসেবে।



