বার্ধক্যে স্মৃতিভ্রম এড়াতে ১০ করণীয়

চল্লিশ বছর পেরোলেই জীবনে এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়। এই সময়টায় শরীরের পাশাপাশি মস্তিষ্কের দিকেও একটু বাড়তি যত্ন প্রয়োজন। চিকিৎসকদের মতে, ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রম সাধারণত বার্ধক্যে ধরা পড়লেও এর সূচনা হয় অনেক আগেই মধ্যবয়স থেকে। তাই এখনই যদি জীবনযাত্রায় কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়। তাহলে ভবিষ্যতে স্মৃতিশক্তি সুস্থ ও সতেজ রাখা সম্ভব।মস্তিষ্ককে দীর্ঘদিন কর্মক্ষম রাখতে এবং ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে চলুন জেনে নেওয়া যাক ১০টি কার্যকর অভ্যাস—
নিয়মিত শরীরচর্চা করুন
হাঁটা, দৌড়ানো কিংবা সাঁতারের মতো হালকা অ্যারোবিক ব্যায়াম মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বাড়ায়। এতে স্মৃতির সঙ্গে জড়িত অংশগুলো সক্রিয় থাকে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট শরীরচর্চা মস্তিষ্কের সুস্থতার জন্য খুবই উপকারী।
খাবারে আনুন স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন
সবুজ শাকসবজি, বাদাম, বেরি জাতীয় ফল, সামুদ্রিক মাছ ও অলিভ অয়েল এই খাবারগুলো মস্তিষ্কের জন্য দারুণ উপকারী। বিপরীতে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমিয়ে দিন, কারণ এগুলো মস্তিষ্কে প্রদাহ সৃষ্টি করে।
নতুন কিছু শেখার অভ্যাস গড়ে তুলুন
নতুন ভাষা শেখা, বাদ্যযন্ত্র বাজানো বা ছবি আঁকার মতো সৃজনশীল কাজ মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে। এতে নিউরনের মধ্যে সংযোগ বাড়ে এবং স্মৃতিশক্তি দীর্ঘদিন ভালো থাকে।
পর্যাপ্ত ও গভীর ঘুম নিশ্চিত করুন
ঘুমের সময়ই মস্তিষ্ক নিজেকে পরিষ্কার ও মেরামত করে। প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম স্মৃতি সংরক্ষণে সাহায্য করে এবং ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমায়।

সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখুন
একাকীত্ব মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, পরিবারে সময় কাটানো কিংবা সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলে মন ভালো থাকে এবং মস্তিষ্কও সচল থাকে।
রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন
উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস মস্তিষ্কের ক্ষুদ্র রক্তনালীর ক্ষতি করতে পারে। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন।
শ্রবণশক্তির যত্ন নিন
শুনতে সমস্যা হলে তা অবহেলা করবেন না। গবেষণায় দেখা গেছে, শ্রবণশক্তি কমে গেলে স্মৃতিভ্রমের ঝুঁকি বাড়ে। প্রয়োজনে দ্রুত বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হন।
মানসিক চাপ কমান
দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ মস্তিষ্কের কোষের ক্ষতি করে। ধ্যান, যোগব্যায়াম বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক।
ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার করুন
ধূমপান ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করে। সুস্থ মস্তিষ্কের জন্য এসব অভ্যাস ত্যাগ করাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।

মস্তিষ্কের খেলা খেলুন
সুডোকু, দাবা, শব্দজট বা ধাঁধার মতো খেলা মস্তিষ্কের চিন্তাশক্তি বাড়ায় এবং স্মৃতিশক্তিকে ধারালো রাখে।
ডিমেনশিয়া কোনো অবধারিত নিয়তি নয়। সচেতন জীবনযাপন ও কিছু ভালো অভ্যাসের মাধ্যমে একে অনেকাংশেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। মনে রাখবেন, আজকের ছোট ছোট যত্নই আগামী দিনের সুস্থ ও সতেজ মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।



