মুক্তিযুদ্ধে নারীরা পুরো দেশটাকে ধারণ করেছিলেন : বীর মুক্তিযোদ্ধা লিনু হক

বীর মুক্তিযোদ্ধা লিনু হক বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধে নারীরা শুধু সহায়ক ভূমিকা পালন করেননি, বরং পুরো দেশটাকেই ধারণ করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘মা যেমন ১০ মাস ১০ দিন সন্তানকে গর্ভে ধারণ করেন, তেমনি একাত্তরে নারীরা পুরো দেশকে ধারণ করেছিলেন।’
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সাহস বুকে বাঁচি’ শীর্ষক এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। লিনু হক একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ২ নম্বর সেক্টরের সজীব বাহিনীর সদস্য ছিলেন।
লিনু হক বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় নারীরা ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁরা স্বামী ও সন্তানকে যুদ্ধে পাঠিয়েছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র ও রসদ সংরক্ষণ করেছেন, খাবার দিয়ে সহযোগিতা করেছেন এবং নিরাপদ পথ দেখিয়েছেন। অথচ এই ত্যাগের বিনিময়ে তাঁরা কোনো প্রাপ্য দাবি করেননি; সন্তানের অর্জনেই তাঁরা সন্তুষ্ট ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বলি ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু “সম্ভ্রম” শব্দটি ব্যবহার করা ঠিক নয়। কারণ, নারীরা স্বেচ্ছায় নয়, জোরপূর্বক পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ধর্ষকের যদি সম্ভ্রম না যায়, তবে নারীর কেন যাবে? একাত্তরের পর সমাজই তাঁদের একঘরে করেছে।’
মুক্তিযুদ্ধকে জনযুদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করে লিনু হক বলেন, জামায়াত, আলবদর ও রাজাকার ছাড়া সাড়ে সাত কোটি মানুষই এই যুদ্ধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত ছিল। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অস্তিত্ব ও শিকড়ের গল্প। সেই শিকড়ের ইতিহাস তুলে ধরতে হবে এবং ধারণ করতে হবে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, ‘শিকড়ে যেমন চারাগাছ জন্মায়, তেমনি আগাছাও জন্মায়। এখন আগাছা অনেক বেড়ে গেছে। সেগুলো পরিষ্কার করতে হলে চারাকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হবে। আত্মপরিচয় টিকিয়ে রাখতে আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।’
সকাল ১১টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ইউসূফ হাসান (অর্ক) লিনু হককে স্বাগত জানান। পরে বিভাগের শিক্ষার্থীরা গান, কবিতা ও নৃত্য পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিভাগের শিক্ষার্থী এরফানুল হক (ইফতু) ও সংগ্রামী প্রীতি (বাঁধন)।



