বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনমঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬
নারী

স্মৃতির ক্যানভাসে আসমা–নাজমা–ফাতেমা, প্রদর্শনীর সমাপ্তি

IMG-20251216-WA0001

মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রামে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মর্টার শেলের আঘাতে প্রাণ হারান তিন বোন আসমা, নাজমা ও ফাতেমা। তাদের নিয়ে মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় আয়োজন করা হয় ‘ত্রিবেণী’ শিরোনামের চিত্র প্রদর্শনী ও জনস্বাস্থ্য মেলা।

রাঢ়ীখাল ইউনিয়নের বালাসুর বিক্রমপুর জাদুঘর প্রাঙ্গণে প্রদর্শনী ও মেলার আয়োজন করে নৈর্ঋত স্টুডিও। সহযোগিতা করে মুক্ত আসর ও স্বপ্ন ৭১ প্রকাশনা। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে আয়োজনটি শুরু হয়, যা মঙ্গলবার শেষ হয়েছে।

আয়োজকরা জানান, মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগ ও নির্মমতার শিকার হওয়া মানুষের প্রতীক হিসেবে আসমা, নাজমা ও ফাতেমা নামের তিন বোন নিহত হওয়ার ঘটনা প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়েছে। তাদের স্মৃতি তুলে ধরা হয় চিত্রকলা, ইনস্টলেশন, ভিজ্যুয়াল মাধ্যম এবং তাঁদের ব্যবহৃত পোশাকের মাধ্যমে। তিন বোনের সাদাকালো একটিমাত্র ছবি সম্বল করে তাঁদের বিভিন্ন ধরনের ছবি আঁকেন শিল্পীরা। জলরং, তেলরং ও দৃশ্যমাধ্যমে ফুটিয়ে তোলেন আসমা, নাজমা ও ফাতেমার শৈশব থেকে শহীদ হওয়ার দিন পর্যন্ত সময়ের ঘটনা।

প্রদশর্নীতে স্থান পায় তরুণ শিল্পী প্রশুন হালদার, মৃৎমন্দির গুঞ্জন কুমার রায়, জয়তী বিশ্বাস, সারাহ জাবীনের কাজ।

Advertisements

গত রোববার প্রদর্শনী ও জনস্বাস্থ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক মুজাহেরুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন ত্রিবেণী চিত্র প্রদর্শনী ও জনস্বাস্থ্য মেলার সদস্যসচিব আবদুল লতিফ। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিক্রমপুর জাদুঘরের কিউরেটর নাসির উদ্দীন, শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জসিমউদ্দীন, মুক্ত আসরের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি আবু সাঈদ, লেখক আশফাকুজ্জামান, নৈর্ঋত স্টুডিওর প্রতিষ্ঠাতা আয়শা জাহান। ছিলেন তিন বোনের ছোট ভাই ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আবদুর রহমান।

মুক্ত আসরের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি আবু সাঈদ বলেন, এই প্রদর্শনী মুক্তিযুদ্ধের সময় ত্যাগ স্বীকার করা মানুষের অজানা গল্পের প্রতিফলন। এটি শুধু শিল্পের জন্য নয়, বরং বিস্মৃত স্বপ্ন, সাহস ও স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর অনন্য প্রয়াস। আর নৈর্ঋত স্টুডিওর প্রতিষ্ঠাতা আয়শা জাহান বলেন, চট্টগ্রামে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মর্টার শেলের হামলায় যে তিন বোনসহ ১৬ জন শহীদ হয়েছিলেন তাঁদের স্মরণ করতেই এই ত্রিবেণী চিত্র প্রদর্শনী ও জনস্বাস্থ্য মেলার আয়োজন। ইতিহাসের করুণ অধ্যায় নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরাই ছিল এই আয়োজনের লক্ষ্য।

প্রদর্শনীতে শহীদদের ছবির পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধকালীন নানা ঘটনার চিত্র, তথ্যচিত্র ও সচেতনতামূলক স্বাস্থ্যবিষয়ক উপকরণ প্রদর্শন করা হয়।

Advertisements