বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬
নারী

নারীরা প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকলে সাইবার সহিংসতার ঝুঁকি বাড়ে

Untitled-2

নারী, কন্যা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী প্রযুক্তি ব্যবহারে পিছিয়ে থাকলে সাইবার সহিংসতা আরও সহজে বাড়তে পারে এমন উদ্বেগ জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীরা। তাঁদের মতে, সম্প্রতি নারীদের বিরুদ্ধে সংগঠিতভাবে অনলাইন অপমান, গালি, বিকৃত ছবি ছড়ানো ও যৌন-হেনস্তার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। নারীরা যখনই সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যেতে শুরু করেন, তখনই এই ধরনের অনলাইন আক্রমণ তীব্র হয়। তাই সবার আগে নারী ও কন্যাদের মধ্যে ডিজিটাল দক্ষতা নিশ্চিত করা জরুরি।

বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘নারী ও কন্যার প্রতি সাইবার সহিংসতার প্রতিকার ও প্রতিরোধ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহা অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষ্ণা দেবনাথ বলেন, “আজ সাইবার অপরাধ ধর্ষণ বা শ্লীলতাহানির মতো অপরাধের চেয়েও দ্রুত ছড়াচ্ছে। সাইবার সুরক্ষা আইনকে আরও কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে হবে।”

মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক নোভা আহমেদ সাইবার সহিংসতা প্রতিরোধে কয়েকটি সুপারিশ উপস্থাপন করেন।

এর মধ্যে রয়েছে— প্রযুক্তি শিক্ষায় সহায়তা চাওয়ার পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করা,আইনের বাস্তব প্রয়োগ ও প্রয়োজনীয় সংশোধন নিশ্চিত করা, দ্রুত বিচার কার্যক্রম চালু করা, সাইবার অপরাধে আক্রান্ত নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

শেখ আশফাকুর রহমান বলেন, “সাইবার সহিংসতার ধরন চিহ্নিত না করলে প্রতিরোধ সম্ভব নয়।”

বিটিআরসির কর্মকর্তা এস এম মনিরুজ্জামান জানান, “আইনকানুন অনুসারে বিটিআরসি কাজ করে। সোশ্যাল মিডিয়ার কনটেন্টে সরাসরি প্রবেশের অনুমতি না থাকায় দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করা সবসময় সহজ হয় না।”

ডিএমপি কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, “সাইবার সহায়তা প্রদানকারীদের পাশাপাশি ভুক্তভোগীকেও প্রযুক্তিগত বিষয়ে প্রশিক্ষিত হতে হবে।”

আইনজীবী অমিত দাশ গুপ্ত শিক্ষায় নৈতিকতা, সাইবার আইন ও সচেতনতা অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দেন।

সাংবাদিক দ্রোহী তারা বলেন, “আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি, পাশাপাশি সচেতনতামূলক কনটেন্ট তৈরি এবং এআই–এর অপব্যবহার প্রতিরোধেও সতর্ক থাকতে হবে।”

Advertisements