বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬
নারী

প্রতিবন্ধীদের অধিকার বাস্তবতায় কতটা সুরক্ষিত?

Untitled-1

আজ ৩ ডিসেম্বর বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস। প্রতিবছরের মতোই অধিকার, মর্যাদা, অন্তর্ভুক্তি ও সেবার প্রতিশ্রুতি নিয়ে নানা আয়োজন হয়। কিন্তু বাস্তবে এসব প্রতিশ্রুতি কতটা রূপ পায়, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। দিনটি প্রতিবছর মনে করিয়ে দেয় যে সমান অধিকার ও অন্তর্ভুক্তির প্রতিশ্রুতি থাকলেও প্রতিবন্ধী মানুষের জীবন এখনো কঠিন ও সীমাবদ্ধ।

সমাজে প্রতিবন্ধিতা নিয়ে ভুল ধারণা এখনও রয়ে গেছে। অনেকেই এটিকে শুধু শারীরিক সীমাবদ্ধতা হিসেবে দেখেন, অথচ দৃষ্টি, শ্রবণ, বাক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই প্রতিবন্ধিতা প্রকাশ পেতে পারে। দেশে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ এ ধরনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে জীবনযাপন করছেন।

আইন সমান অধিকার নিশ্চিত করলেও শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য সবচেয়ে স্পষ্ট। অনেক শিশু স্কুলে যেতে পারে না। যারা যায়, তাদের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ, প্রশিক্ষিত শিক্ষক বা শেখার উপকরণ থাকে না। রাজশাহীর দৃষ্টি ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী শিশুদের একটি আবাসিক কেন্দ্রের দুরবস্থা এই সমস্যা আরও স্পষ্ট করে। জরাজীর্ণ ভবন, অপ্রতুল শিক্ষক, সামগ্রীর অভাব এবং অনিরাপদ পরিবেশ সেখানে প্রতিদিনের বাস্তবতা।

স্বাস্থ্যসেবায়ও একই সংকট দেখা যায়। বিশেষ করে গ্রামে ফিজিওথেরাপি, স্পিচথেরাপি বা মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া খুবই কঠিন। ব্যয়বহুল চিকিৎসা অনেক পরিবারের নাগালের বাইরে। সরকারি হাসপাতালে বিশেষায়িত সেবা এখনো যথেষ্ট পরিমাণে তৈরি হয়নি।

Advertisements

আরও বড় বাধা হল সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি। প্রতিবন্ধী মানুষকে আজও অনেকেই সহানুভূতির পাত্র হিসেবে দেখেন, সমান মর্যাদার নাগরিক হিসেবে নয়। এই মনোভাব তাদের সুযোগ পাওয়ার পথ সীমিত করে।

বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস তাই শুধু অনুষ্ঠানের দিন নয়। এটি মনে করিয়ে দেয় যে প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব যখন সমাজ সবচেয়ে দুর্বল মানুষের অধিকার নিশ্চিত করে।

Advertisements