বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
নারী

‘স্বল্প পুঁজি ও দিকনির্দেশনা পেলে নারীরা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবেন’

Untitled-3

স্বল্প পুঁজি ও যথাযথ দিকনির্দেশনা পেলে নারীরা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারবে। নারীর উন্নয়ন তখনই টেকসই হয়, যখন তারা নিজস্ব সক্ষমতার ওপর দাঁড়িয়ে আয়–রোজগার করতে পারেন।

বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের ২১তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) বনশ্রীর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ‘দুস্থ নারী সদস্যদের উন্নয়ন ও সফলতার গল্প বলা’ শিরোনামে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে নারী উন্নয়ন শক্তি (নাস)।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য দেন নাসের নির্বাহী পরিচালক ড. আফরোজা পারভীন। তিনি বলেন,

“নারীর উন্নয়ন তখনই স্থায়ী হয়, যখন তারা নিজের যোগ্যতা ও উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল হতে পারে। নাস সেই লক্ষ্যেই দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। আজকের সফলতার গল্পগুলো আমাদের প্রচেষ্টার বাস্তব প্রতিফলন।”

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ফোরাম ফর কালচার অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ড. সুলতান মাহমুদ রাজ্জাক। তিনি বলেন,

“স্বল্প পুঁজি ও যথাযথ দিকনির্দেশনা পেলে নারীরা সমাজে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন আনতে পারেন। নারী উন্নয়ন শক্তির প্রকল্পটি তার স্পষ্ট প্রমাণ।”

সভায় উপকারভোগী নুপুর আক্তার ও জেসমিন তাঁদের জীবনের অনুপ্রেরণামূলক পরিবর্তনের গল্প শোনান।

নুপুর আক্তার—যৌতুকের কারণে নির্যাতিত ও তালাকপ্রাপ্তা—বলেন, “বিপদের সময় নাস আমার পাশে দাঁড়ায়। সামান্য পুঁজিতে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করি। এখন দুটি হাটে এবং অনলাইনে কাপড় বিক্রি করি। নিজের আয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে সন্তানের সঙ্গে নিরাপদে থাকছি, তার পড়াশোনার খরচও নিজেই চালাতে পারছি।”

উপকারভোগী জেসমিন বলেন, “নাসের সহায়তায় একটি গামলায় মুড়ি বিক্রি করে আমার পথচলা শুরু। পরে একটি ছোট খাবারের দোকান খুলতে পারি। এখন দোকানে হালিম, চটপটি, আলুর দম, ফুচকা, নুডুলসসহ বিভিন্ন খাবার বিক্রি করি। ধীরে ধীরে আয় বাড়ছে, আর নিজের পায়ে দাঁড়াতে পেরে গর্ব বোধ করি।”

Advertisements