নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে দ্বিতীয় জাতীয় কর্মপরিকল্পনার আহ্বান

বাংলাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগে নারীর ওপর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং নারী শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় দ্রুত দ্বিতীয় জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা।
বৃহস্পতিবার ঢাকাস্থ সমাজসেবা অধিদপ্তরের মধুমতি অডিটোরিয়ামে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন ১৩২৫ এর ২৫ বছরপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এ আহ্বান জানান। বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের (বিএনপিএস) উদ্যোগে এবং ইউএন উইমেন-এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, গবেষক ও নীতি–নির্ধারকরা বক্তব্য রাখেন।
ইউএন উইমেন-এর প্লানিং, মনিটরিং অ্যান্ড রিপোর্টিং অ্যানালিস্ট তানিয়া শারমিন বলেন, যুদ্ধ কিংবা সংঘাতকালীন সময়ে নারী ও মেয়েরা সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে থাকে। রেজুলেশন ১৩২৫ বিশ্বব্যাপী নারী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশেও সহিংসতা প্রতিরোধ ও জলবায়ু দুর্যোগ মোকাবিলায় জাতীয় পরিকল্পনা কার্যকর অবদান রাখতে পারে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. সাইদুর রহমান খান বলেন, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি।
গবেষক ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা বলেন, মানবসৃষ্ট দুর্যোগ, পরিবেশ সংকট ও ন্যায্যতার বিষয় বিবেচনায় রেখে পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভানেত্রী ড. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নারী নিরাপত্তা কেবল নারীর বিষয় নয়; এটি সমাজের সামগ্রিক শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত। সাইবার সহিংসতা, ধর্মীয় উগ্রবাদী প্রচারণা এবং নারী বিদ্বেষী বক্তব্য প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বিএনপিএস-এর নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি না থাকলেও দেশে নারী এখনো বৈষম্য, সহিংসতা ও বিভিন্ন ধরনের দমন–পীড়নের শিকার। এর পেছনে রয়েছে পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি, গণতন্ত্রের একপেশে চর্চা এবং নারীবিদ্বেষী প্রচারণা। দ্বিতীয় জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে এসব মূল কারণ মোকাবিলার ওপর জোর দিতে হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব রায়হান মাহমুদ হান্নান বলেন, ২০১৯ সালে নেওয়া প্রথম জাতীয় কর্মপরিকল্পনা কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি বলেন, শান্তিরক্ষায় নারীর অংশগ্রহণকে খরচ নয়, বরং বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
বক্তারা আরও বলেন, হিউম্যানিটারিয়ান পরিস্থিতি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় কর্মীদের জন্য জেন্ডার ও মানবাধিকার প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক, সাইবার ক্রাইম ও নারীর প্রতি বিদ্বেষমূলক প্রচারণা বন্ধ, বৈষম্যমূলক আইন বাতিল এবং ধর্মভিত্তিক উত্তরাধিকার ও পারিবারিক আইন সংস্কার করে ইউনিফর্ম সিভিল কোড প্রণয়ন করতে হবে।



