বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনরবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬
নারী

গাজায় শিশুদের কান্নাভেজা বর্ণনা— ‘বাবা-মাকে হার্টে গু/লি করেছে’

gaza-20251125191502

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় দুই বছরের বেশি সময় ধরে চালানো নিরন্তর হামলায় দখলদার ইসরায়েল এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে। এই হামলায় কেউ বাবা-মাকে হারিয়েছে, কেউ আবার হারিয়েছে নিজের সন্তানকে।

গাজার বহু শিশুই এত অল্প বয়সে এতিম হয়ে গেছে যে, তারা এখনো বুঝতেই পারে না—জীবন থেকে কতটা বড় সম্পদ হারিয়ে ফেলেছে তারা।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) আলজাজিরা প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি শিশুদের সঙ্গে কথা বলছেন; প্রশ্ন করছেন—তাদের মা–বাবা জীবিত আছেন কি না। শিশুরা তখন নিরীহ চোখে জানাচ্ছে তাদের বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতার কথা।

এরমধ্যে এক ছেলে শিশুকে বলতে শোনা যায়, “আমার বাবা-মা দুজন মারা গেছে।” এক মেয়ে সহপাঠীকে দেখিয়ে শিশুটি বলে, “তার বাবা মারা গেছে’।”

Advertisements

ওই ব্যক্তি তখন জিজ্ঞেস করেন, “সত্যি? তোমার বাবা মারা গেছে?” আরেক শিশুকে দেখিয়ে তিনি বলেন, “ওর বাবাও মারা গেছে?”

তখন পাশের শিশুটি বলে, “না ওর মা মারা গেছে।” মেয়েটি তার বাবার মৃত্যুর বর্ণনা দিয়ে বলে, “নাবলুসে আমার বাবা মারা গেছে।” ছেলে শিশুটি বলে “আমার বাবা মারা গেছে মেরাজে।” কিভাবে মারা গেছে জিজ্ঞেস করার পর ছেলেটি বলে, “আমার বাবা আটার বস্তা আনতে গিয়েছিল। যেন আমরা খেতে পারি।”

এরপর তিনি শহীদ হয়ে ফিরে এসেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে শিশুটি হ্যা সূচক জবাব দেয়। তোমার বাবার জন্য কি দুঃখ লাগে? মাথা নেড়ে হ্যাঁ উত্তর দেয় সে।

মেয়েটি তখন বলে, “আমার বাবাকে তিনটি গুলি করেছে।” ছেলেটি তার হার্টের দিকে ইশারা করে দেখায়, “আমার বাবাকে এখানে গুলি করেছে।”

প্রশ্নকারী তখন জিজ্ঞেস করেন তুমি কোন পরিবারের সন্তান। শিশুটি বলে ‘ওদা’। তোমরা কি এখন জেইতুনে থাকো এ প্রশ্নের জবাবে শিশুটি বলে ‘হ্যাঁ’।

এরপর মেয়ে শিশুটিকে তার বাবার নাম জিজ্ঞেস করলে সে জানায় তার বাবার নাম ছিল ফাদি। কীভাবে মারা গেছে প্রশ্নের উত্তরে সে বলে, “নাবলুসে, লাকড়ি কুড়াতে গিয়েছিল। যেন সেগুলো বিক্রি করে আমাদের জন্য আটা কিনে আনতে পারে। কিন্তু তিনি মৃত অবস্থায় ফিরে এসেছিলেন।”

Advertisements