বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
স্পটলাইট

প্রান্তিক নারীদের অধিকার নিশ্চিতই উন্নয়নের পূর্বশর্ত

Untitled-1

শুধু ভাতা ও বৃত্তি প্রদান নয়, প্রান্তিক নারীদের উন্নয়নে প্রয়োজন আইনি সুরক্ষা, কাঠামোগত পরিবর্তন এবং সব ক্ষেত্রে সমান অধিকার, এমন মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, দলিত, আদিবাসী, প্রতিবন্ধী ও লিঙ্গবৈচিত্র্যপূর্ণ গোষ্ঠীর নারীরা বহুস্তরীয় বৈষম্যের মুখে থাকেন। তাই আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের ইশতেহারে রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রান্তিক নারীর অধিকার সুরক্ষায় স্পষ্ট অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো ও বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) আয়োজিত ‘কাঠামোগতভাবে প্রান্তিক নারীদের অধিকার ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব মতামত উঠে আসে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক সাইমী ওয়াদুদ বৈঠকে মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, নারী পরিচয়ের কারণে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নারীরা শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও আইনি সহায়তাসহ প্রায় সব ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।

সরকারি প্রতিনিধিদের বক্তব্য

Advertisements

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আবু ইউছুফ বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোর আওতা এখনো জনসংখ্যার তুলনায় কম। ভাতার পরিমাণ প্রতীকী হলেও তা ভাতাভোগীর মর্যাদা বাড়াতে ভূমিকা রাখে। তিনি জানান, নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও পণ্যের বাজার–সংযোগ স্থাপনে সরকার কাজ করছে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. সাইদুর রহমান খান বলেন, প্রান্তিক নারীরা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক—সব ক্ষেত্রেই বঞ্চনার শিকার। গত অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ বাড়াতে নতুন প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

অঞ্চলভেদে বিশেষ পরিকল্পনার দাবি

মানবাধিকারকর্মী ইলিরা দেওয়ান বলেন, পাহাড়, উপকূল ও সমতল—প্রত্যেক এলাকার নারীর প্রয়োজন আলাদা। তাই অঞ্চলভেদে প্রশিক্ষণ ও কর্মসূচি নেওয়া উচিত। তিনি আসন্ন নির্বাচনে প্রান্তিক নারীর অধিকার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক স্নিগ্ধা রেজওয়ানা বলেন, “নারীরা দেশের ৫১ শতাংশ হলেও নানা বৈষম্যের কারণে এখনো প্রান্তিক অবস্থায়। ভাতা বা বৃত্তি দিয়ে কাঠামোগত বৈষম্য দূর করা যায় না।”

দলিত নারী ফোরামের তামান্না সিং বড়াইক চা–শ্রমিক নারীদের ১৮৬ টাকার দৈনিক মজুরি বাড়ানোর দাবি জানান। বনানী বিশ্বাস বলেন, দলিত নারীদের বিবাহ নিবন্ধন, বিচ্ছেদ ও উত্তরাধিকার বিষয়ে আইনগত উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে।

মিনা রানী বিশ্বাস বলেন, পরিচয় প্রকাশের পর দলিত নারীরা সামাজিক ঘৃণার শিকার হন এবং তথ্যের অভাবেও অনেক সেবার বাইরে থাকেন।

প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মী শারমিন আক্তার সরকারি ভবনগুলোতে র্যাম্প, লিফট ও প্রবেশগম্য টয়লেট নিশ্চিত করার দাবি জানান। গবেষক সুচিত্রা সরকার হিন্দু নারীদের উত্তরাধিকার নিশ্চিতের ওপর গুরুত্ব দেন। ‘সম্পূর্ণা’র নির্বাহী পরিচালক জয়া সিকদার ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের জন্য সংবেদনশীল সেবা বাড়ানোর কথা বলেন। অধিকারকর্মী প্রাপ্তি তাপসী নারীর কোটা পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।

মিরনঝিল্লার দলিত প্রতিনিধি পূজা রানী দাস বলেন, দলিত নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে যথাযথ ঋণসুবিধা প্রয়োজন। তাঁদের পঞ্চায়েত কমিটিতে নারীর কোনো আসন নেই বলেও জানান তিনি।

Advertisements