২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | রবিবারবাংলা: ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
নারী

ধান আর পাথর কুড়িয়ে দুই বৃদ্ধার জীবন সংগ্রাম

Untitled-2

বয়সের ভারে হাটাচলা মুশকিল, শরীরে কমে গেছে শক্তি, তবুও ভিক্ষাবৃত্তি নয় কাজকেই বেছে নিয়েছেন দুই বোন দুধমেহের (৬৫) ও চানমেহের (৬৩)। হাতে থাকে বাঁশের ঝুড়ি আর কাঁচি। কখনও মাঠে পড়ে থাকা ধান কুড়ান, কখনও নদীর তীরে পাথর সংগ্রহ করেন। এভাবেই চলছে তাদের জীবনের লড়াই।

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংহপুর ইউনিয়নের পূর্ব চাইড়গাঁও গ্রামের বাসিন্দা এই দুই বোন। দুধমেহেরের বিয়ে হয় ১৯৭১ সালে একই গ্রামের আব্দুল হাসিমের সঙ্গে। সংসারে দুটি সন্তান এলেও কেউই বাঁচেনি বেশিদিন। কিছুদিন পর স্বামীও চলে গেলে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন দুধমেহের।

সেই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ান ছোট বোন চানমেহের, যিনি বিয়ের ছয় মাসের মাথায়ই বিধবা হন। তারপর থেকে দুই বোনই একে অপরের ভরসা। কখনও ফসলের ক্ষেতে, কখনও নদীর চরে কাজ করে কাটছে তাদের জীবন।

গত শনিবার চেলা নদীর তীরে দেখা যায় দুই বৃদ্ধাকে। কথা হয় দুধমেহেরের সঙ্গে। তিনি বলেন, “বর্ষায় নদী ফুলে গেলে আমরা মাঠে যাই। পড়ে থাকা ধান কুড়িয়ে বিক্রি করি। আর এখন শুকনো মৌসুমে নদীতেই পাথর কুড়াই।”

চানমেহের জানান, বালু খুঁড়ে পাওয়া পাথর বিক্রি করেই চলে তাদের খাবার, ওষুধ আর অন্যান্য খরচ। চোখ মুছে তিনি বলেন, “মানুষের কাছে চাইতে লজ্জা লাগে। যতদিন শরীরে জোর আছে, কাজ করেই বাঁচতে চাই।”

নরসিংহপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. নুর উদ্দিন বলেন, “এ রকম অসহায় নারীরা নিশ্চয়ই বয়স্ক বা বিধবা ভাতার যোগ্য। তারা আবেদন করলে সহায়তা করা হবে।”

Advertisements
Advertisements