২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | শুক্রবারবাংলা: ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
স্পটলাইট

ধ্বংসস্তূপে নতুন শুরু: গাজায় আশ্রয়কেন্দ্রেই চলছে ক্লাস

Untitled-2

একসময় ছিল নিজের ঘর, ছিল পড়ার টেবিল, খেলনা এখন সেই সব কিছুই কেবল স্মৃতি। গাজার ছোট্ট মেয়ে ইনাম আল-মাঘারি আজ খেলছে ভাঙা পুতুল নিয়ে বালুর ওপর, চারপাশে ধ্বংসস্তূপ যেন তার ছিন্নভিন্ন শৈশবের প্রতিচ্ছবি।

দুই বছরের টানা যুদ্ধ ও ইসরায়েলি হামলায় গাজার জীবনের রূপরেখা পুরো বদলে গেছে। ঘরবাড়ি থেকে হাসপাতাল, স্কুল থেকে বাজার কিছুই আর আগের মতো নেই। গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও ধ্বংসাবশেষের শহরে জীবনের গতি ফেরানো এখনও কঠিন।

তবুও নতুন শুরুর চেষ্টা চলছে। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলো ধীরে ধীরে চালু করছে। বহু স্কুল এখনো আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যেখানে বাস্তুচ্যুত পরিবার ও শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে জায়গা ভাগ করে নিচ্ছে। গাজার দেইর এল-বালাহতে এমনই এক আশ্রয়কেন্দ্রে পরিবারগুলো থাকার পাশাপাশি শিশুদের পড়াশোনার ব্যবস্থাও করছে।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে তিন লাখের বেশি শিক্ষার্থী নিয়মিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। ইউএনআরডব্লিউএর তথ্যমতে, যুদ্ধের ধাক্কায় তাদের ৯৭ শতাংশ স্কুল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। এই বাস্তবতায় স্কুলে ফিরে পড়াশোনা শুরু করাই শিশুদের কাছে এখন এক রকম স্বপ্নপূরণ।

ইনাম আল-মাঘারি জানায়, “আমরা আবার স্কুলে ফিরেছি, কিন্তু অনেক কিছু হারিয়ে ফেলেছি। দুই বছর ধরে স্কুল থেকে দূরে ছিলাম। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণি শেষ করতে পারিনি। এখন আমি চতুর্থ শ্রেণিতে, কিন্তু মনে হয় কিছুই জানি না।”

ইউএনআরডব্লিউএর প্রধান এনাস হামদান বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে। গাজার ৬২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর জন্য অস্থায়ী ও নিরাপদ শেখার পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি অনলাইন শিক্ষাও চলছে, যা ইতোমধ্যেই তিন লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

Advertisements

তবে শারীরিক ক্ষতির চেয়েও ভয়াবহ মানসিক আঘাত। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, গাজার ৮০ শতাংশের বেশি শিশু এখন গুরুতর মানসিক ট্রমায় ভুগছে। ইউনিসেফের হিসাব বলছে, সংঘর্ষের সময় ৬৪ হাজারেরও বেশি শিশু নিহত বা আহত হয়েছে।

Advertisements