সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার, ঢাবি শিক্ষিকার আইনি পদক্ষেপ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভুঁইয়া মোনামী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ছবি বিকৃত করে অশালীন ও মানহানিকর মন্তব্য ছড়ানোর অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে।
সোমবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে শাহবাগ থানায় এজাহার দায়েরের পর এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানান শেহরীন আমিন ভুঁইয়া। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর মানবাধিকার সম্পাদক সাখাওয়াত জাকারিয়া, কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা এবং মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা।
শেহরীন আমিন ভুঁইয়া বলেন,“দীর্ঘদিন ধরে আমার ছবি বিকৃত করে অশালীনভাবে পোস্ট করা হচ্ছে। এসব পোস্টে আমাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর মন্তব্য করা হয়েছে। এতে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে অবশেষে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
তিনি আরও জানান, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
মামলার বিবরণ এজাহারে উল্লেখ করা হয়,
শেহরীন আমিন ভুঁইয়া (৩৪), পিতা—আমিনুল ইসলাম, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার বাসিন্দা।
বিবাদী নং ১: সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্ট মুজতবা খন্দকার—তিনি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেহরীনের ছবি অশালীনভাবে সম্পাদনা করে পোস্ট করেন এবং ক্যাপশনে লেখেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইনি, পোশাকের স্বাধীনতায় পরেছে বিকিনি।”
বিবাদী নং ২: লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট মহিউদ্দিন মোহাম্মদ—তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে ওই ছবি শেয়ার দিয়ে লেখেন, “যৌন-কল্পনার রসদ।” তার পোস্টের নিচে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর মন্তব্যও করা হয়।
বিবাদী নং ৩: ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী নিরব হোসাইন ডেইলি ক্যাম্পাস নিউজ পোর্টালের একটি ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যে শেহরীনকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেন।
বিবাদী নং ৪: আশফাক হোসাইন ইভান—তিনি নিজের ফেসবুক পেজে শেহরীনের সম্পাদিত অশালীন ছবি পোস্ট করেন।
বিবাদী নং ৫: একাধিক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি, যারা বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে ধারাবাহিকভাবে শেহরীনের ছবি বিকৃত করে পোস্ট করছেন এবং কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, গত ২ অক্টোবর সকাল ১১টা ২৫ মিনিটের দিকে শেহরীন আমিন ভুঁইয়া শাহবাগ থানার আওতাধীন অফিসকক্ষে অবস্থানকালে এসব অশালীন পোস্ট ও মন্তব্য দেখতে পান।
তিনি জানান,“ক্রমাগত এই অপমানজনক পোস্ট ও মন্তব্য আমাকে চরম মানসিক কষ্টে ফেলেছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করে আইনগত আশ্রয় নিয়েছি।”
এজাহারে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।



