মেকআপ তোলাই সব নয়, ত্বক ভালো রাখতে আরও যা করতে হবে

সাজগোজের পর নিজেকে আয়নায় দেখতে ভালো লাগে। বাইরে বের হওয়ার আগে বিবি ক্রিম, পাউডার, কাজল, মাসকারা কিংবা লিপস্টিক—সব মিলিয়ে মুখে আসে পরিপাটি একটি আবহ। কিন্তু দিনের শেষে এই সাজ যত্ন করে না তুললে ত্বকের জন্য সেটিই হয়ে উঠতে পারে অস্বস্তির কারণ। মেকআপের অবশিষ্টাংশ ত্বকে জমে থাকলে লোমকূপ বন্ধ হয়ে ব্রণ, র্যাশ কিংবা ত্বকের শুষ্কতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তাই শুধু মুখে পানি বা সাধারণ ফেসওয়াশ ব্যবহার করলেই মেকআপ পরিষ্কার হয়েছে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। মেকআপ তোলার পাশাপাশি ত্বককে ভালোভাবে পরিষ্কার ও ময়েশ্চারাইজ করাও জরুরি।
তাড়াহুড়ো করে মেকআপ তুলবেন না
বাড়ি ফিরে মেকআপ নিয়েই গোসল করতে চলে যাওয়ার বদলে আগে সময় নিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন। এর আগে হাত ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া জরুরি। অপরিষ্কার হাতে মুখে স্পর্শ করলে ধুলো-ময়লা ও জীবাণু ত্বকে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
মেকআপ তোলার প্রথম ধাপে ত্বকের ধরন অনুযায়ী মেকআপ রিমুভার, ক্লিনজিং অয়েল বা ক্লিনজিং মিল্ক ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষ করে চোখ ও ঠোঁটের মেকআপ আলতো হাতে পরিষ্কার করতে হবে। জোরে ঘষাঘষি করলে ত্বকে জ্বালা বা সংবেদনশীলতা তৈরি হতে পারে।
ক্লিনজিংয়ের পর দ্বিতীয়বার পরিষ্কার করুন
মেকআপ রিমুভ করার পর ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার করতে মৃদু ফেসওয়াশ ব্যবহার করা যেতে পারে। মুখে ক্লিনজার লাগিয়ে কিছুক্ষণ আলতোভাবে ম্যাসাজ করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এরপর নরম তোয়ালে দিয়ে চাপ দিয়ে মুখ শুকিয়ে নিন। তবে খুব গরম পানি কিংবা অতিরিক্ত ঘষাঘষি এড়িয়ে চলাই ভালো। এতে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে শুষ্কতা ও অস্বস্তি বাড়তে পারে।
ঘরোয়া উপাদানে মেকআপ তোলার আগে সতর্কতা
অনেকে মেকআপ পরিষ্কারের জন্য বিভিন্ন ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করেন। আলু, শসা, টমেটো, দই কিংবা মধুর মতো উপাদান ত্বকের যত্নে জনপ্রিয় হলেও এগুলোকে মেকআপ রিমুভারের বিকল্প হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে চোখের আশপাশের সংবেদনশীল ত্বকে ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।
ত্বকের জন্য উপযোগী ও পরীক্ষিত মেকআপ রিমুভার ব্যবহার করাই নিরাপদ পদ্ধতি। নতুন কোনো উপাদান মুখে ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া যেতে পারে।
মেকআপের পর ত্বককে দিন বাড়তি যত্ন
মেকআপ সম্পূর্ণ তুলে ফেলার পর ত্বককে আরাম দিতে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা ভালো। ত্বকের ধরন অনুযায়ী হালকা ময়েশ্চারাইজার বেছে নিতে পারেন। যাদের ত্বক শুষ্ক, তারা একটু বেশি ময়েশ্চারাইজিং ফর্মুলা ব্যবহার করতে পারেন। আবার তৈলাক্ত বা ব্রণপ্রবণ ত্বকের ক্ষেত্রে হালকা, নন-কমেডোজেনিক ময়েশ্চারাইজার উপযোগী হতে পারে। মেকআপ করার দিনগুলোতে ত্বকের যত্নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ঘুমানোর আগে মুখ সম্পূর্ণ পরিষ্কার করা। মেকআপ নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাস ত্বকের জন্য মোটেই ভালো নয়।
ডিপ ক্লিনজিং কি প্রতিদিন প্রয়োজন?
প্রতিদিন ভারী ডিপ ক্লিনজিং প্যাক বা স্ক্রাব ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। অতিরিক্ত স্ক্রাবিং বা বারবার ত্বক ঘষে পরিষ্কার করার চেষ্টা বরং ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষা স্তর ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সপ্তাহে একবার বা প্রয়োজন অনুযায়ী মৃদু ফেস মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ত্বকে ব্রণ, অ্যালার্জি, জ্বালাপোড়া বা অন্য কোনো সমস্যা থাকলে নিজের মতো করে বিভিন্ন উপাদান মিশিয়ে ব্যবহার না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।
সবশেষে মনে রাখা দরকার, সুন্দর ত্বকের জন্য শুধু মেকআপই যথেষ্ট নয়। মেকআপ যতটা যত্ন নিয়ে করা হয়, দিনের শেষে সেটি তোলার ক্ষেত্রেও ততটাই যত্নশীল হতে হবে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পর্যাপ্ত আর্দ্রতা এবং ত্বকের ধরন অনুযায়ী যত্ন—এই তিনটিই হতে পারে স্বাস্থ্যকর ত্বকের মূল চাবিকাঠি।



