শিশুদের সাহিত্যে চালু হচ্ছে বুকার প্রাইজ

বিশ্ব সাহিত্যের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ‘বুকার প্রাইজ’-এর আয়োজকেরা এবার শিশু সাহিত্যের জন্য চালু করতে যাচ্ছেন নতুন একটি পুরস্কার—‘চিলড্রেনস বুকার প্রাইজ’। ৮ থেকে ১২ বছর বয়সী পাঠকদের জন্য লেখা সমসাময়িক কথাসাহিত্যকে স্বীকৃতি দিতে এই পুরস্কার চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। খবর বিবিসির।
নতুন এই পুরস্কারটি আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালে চালু হবে, এবং ২০২৭ সাল থেকে প্রতি বছর বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এর বিশেষত্ব হলো—বিচারকদের মধ্যে থাকবেন শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়েই।
প্রথমবারের মতো বিচারকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জনপ্রিয় শিশু সাহিত্যিক ও ‘মিলিয়নস’ বইয়ের লেখক ফ্রাঙ্ক কট্রেল বয়েস, যিনি যুক্তরাজ্যের শিশু সাহিত্য পুরস্কারেরও প্রাপক। নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, “এই দায়িত্ব পেয়ে আমি দারুণ আনন্দিত। এটি এক অসাধারণ উদ্যোগ হতে যাচ্ছে—চলুক পুরস্কারের আনন্দধ্বনি!”
বুকার প্রাইজ ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী গ্যাবি উড বলেন, “চিলড্রেনস বুকার প্রাইজ আমাদের গত দুই দশকের সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী উদ্যোগ। আমরা আশা করি এর প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে অনুপ্রেরণা ছড়াবে।”
এই পুরস্কারের জন্য প্রকাশকরা ২০২৬ সালের বসন্তে বই জমা দিতে পারবেন। এরপর প্রাপ্তবয়স্ক তিন বিচারকের একটি প্যানেল প্রথমে আটটি বইয়ের সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করবে, আর চূড়ান্ত বিজয়ী নির্ধারণে যুক্ত হবেন তিনজন শিশু বিচারক।
সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত ও বিজয়ী বইয়ের অন্তত ৩০ হাজার কপি শিশুদের মধ্যে উপহার হিসেবে বিতরণ করা হবে।
বিখ্যাত শিশু সাহিত্যিক ড্যাম জ্যাকলিন উইলসন এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, “এটি সত্যিই এক দারুণ উদ্যোগ।”
চিলড্রেনস বুকার প্রাইজ আন্তর্জাতিক বুকার প্রাইজের মতোই মর্যাদাপূর্ণ কাঠামোয় পরিচালিত হবে। সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত প্রত্যেক লেখক পাবেন ২৫ হাজার পাউন্ড, আর বিজয়ী লেখককে প্রদান করা হবে ৫০ হাজার পাউন্ড।
পুরস্কারটি বিশ্বের যেকোনো লেখকের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। শর্ত হলো—বইটি ইংরেজিতে লেখা অথবা ইংরেজিতে অনূদিত হতে হবে, এবং তা ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে যুক্তরাজ্য বা আয়ারল্যান্ডে প্রকাশিত হতে হবে।
এই ঘোষণার সময়টি এসেছে এমন এক প্রেক্ষাপটে, যখন ন্যাশনাল লিটারেসি ট্রাস্ট জানিয়েছে—শিশুদের আনন্দের জন্য বই পড়ার প্রবণতা গত ২০ বছরে সবচেয়ে নিচে নেমে গেছে। পাঠাভ্যাসে নতুন করে আগ্রহ জাগাতে যুক্তরাজ্য সরকার ২০২৬ সালকে ঘোষণা করেছে ‘ন্যাশনাল ইয়ার অব রিডিং’ হিসেবে।



