২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | রবিবারবাংলা: ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
নারী

ইরাসমাস কর্মসূচির জননী সোফিয়া কোরাদি আর নেই

download

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঐতিহাসিক শিক্ষা বিনিময় কর্মসূচি ‘ইরাসমাস’-এর প্রবর্তক অধ্যাপক সোফিয়া কোরাদি আর নেই। ইতালির রোমে শনিবার (১৯ অক্টোবর) ৯১ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। রবিবার ইতালির সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এএফপি তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

‘মাম্মা ইরাসমাস’ নামে পরিচিত এই শিক্ষাবিদ রোমা থ্রি ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ছিলেন। তাঁর পরিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সোফিয়া ছিলেন “অসীম প্রাণশক্তি, জ্ঞান, আবেগ ও উদারতায় পরিপূর্ণ এক নারী।”

মাত্র ২০ বছর বয়সে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ ‘ফুলব্রাইট স্কলারশিপ’ অর্জন করেন এবং নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। দেশে ফিরে তিনি দেখেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেই ডিগ্রি ইতালিতে স্বীকৃত নয়। এই অভিজ্ঞতা থেকেই জন্ম নেয় তাঁর চিন্তা—বিদেশে অর্জিত শিক্ষা কেন স্বীকৃত হবে না? এই প্রশ্ন থেকেই তিনি ভাবতে শুরু করেন সীমান্ত পেরিয়ে শিক্ষা বিনিময়ের ধারণা নিয়ে, যা পরে রূপ নেয় ইরাসমাস কর্মসূচিতে।

১৯৮৭ সালে তাঁর উদ্যোগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করে ‘ইরাসমাস’ (European Region Action Scheme for the Mobility of University Students)। তখন থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ শিক্ষার্থী এই কর্মসূচির মাধ্যমে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন।

কোরাদি নিজে বলেছিলেন, “স্নায়ুযুদ্ধের উত্তেজনার সময় আমি ইরাসমাসের ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করি—এটা ছিল আমার ব্যক্তিগত শান্তিবাদী মিশন।”

রোমে জন্ম নেওয়া এই অধ্যাপিকা জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন, দ্য হেগ একাডেমি অব ইন্টারন্যাশনাল ল’ এবং লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সে শিক্ষা অধিকার নিয়ে গবেষণা করেছেন।

Advertisements

ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “সোফিয়া কোরাদি লাখো তরুণ-তরুণীর জীবন বদলে দিয়েছেন—যারা শিক্ষার মাধ্যমে বিশ্বকে দেখেছে, বুঝেছে এবং সংস্কৃতির বন্ধনে যুক্ত হয়েছে।”

ফ্রান্সের ইউরোপীয় বিষয়ক মন্ত্রী বেঞ্জামিন হাদ্দাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, “ইউরোপের তরুণ প্রজন্ম সোফিয়া কোরাদির কাছে ঋণী।”

ইউরোপীয় নেতাদের ভাষায়, সোফিয়া কোরাদি শুধু এক শিক্ষাবিদ নন—তিনি ছিলেন ‘জেনারেশন ইউরোপ’-এর জন্মদাত্রী, যাঁর স্বপ্ন থেকে গড়ে উঠেছে সীমান্ত পেরিয়ে শেখার ও সংযোগের এক মহাদেশব্যাপী সংস্কৃতি।

Advertisements