ফুটবল খেলে যে মেয়েটি রাকসু জয় করল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল মোটামুটি ব্যর্থতার মুখ দেখেছে। ২৩টি পদের মধ্যে তারা মাত্র একটি পদে জয় পায়। সেই একমাত্র জয় এসেছে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে, যেখানে বিজয়ী হয়েছেন জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের সদস্য নার্গিস খাতুন।
নার্গিসের জয়ের পেছনে তাঁর ক্রীড়াঙ্গনে পরিচিতি বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন অনেকেই। ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত নার্গিস নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও খেলা চালিয়ে গেছেন। তিনি বলেন, “গ্রামে খেলা শুরু করার সময় অনেক অপমানজনক কথা শুনতে হয়েছে। তবে আমি দমে যাইনি।”
রাজনীতি নিয়ে তিনি পরিষ্কার করে বলেন, “ছাত্রদলের প্যানেলে প্রার্থী হলেও আমি সরাসরি কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নই, এমনকি বিএনপি বা ছাত্রদলের সদস্যও না। শুধুমাত্র প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচন করেছি।”
গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় কাজী নজরুল ইসলাম অডিটোরিয়ামে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. এফ নজরুল ইসলাম নার্গিসের বিজয় ঘোষণা করেন।
জয়ের পর নার্গিস খাতুন বলেন, ‘এটা আমার জন্য গর্ব ও সম্মানের। আমি শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞ। এখানে শুধু আমি জয়ী হই নাই, জয়ী হয়েছেন আমাকে ভোট দেওয়া প্রত্যেক ভোটার, জয়ী হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। যারা দলমতনির্বিশেষে যোগ্যতার মূল্যায়ন করেছেন। তারা আমাকে বিশ্বাস করেছেন। আমি তাদের বিশ্বাসের মর্যাদা দেব।’
ছাত্রদলের একমাত্র প্রার্থী হিসেবে কীভাবে বিজয়ী হয়েছেন– জানতে চাইলে এই নারী ফুটবলার বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা সবাই যোগ্যতার ভিত্তিতে ভোট দিয়েছেন। আমি দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও খেলেছি। এ কারণে তারা আমার যোগ্যতাকে মূল্যায়ন করেছেন। শিক্ষার্থীরা তাদের মূল্যবান ভোট পছন্দের প্রার্থীকে যোগ্যতার ভিত্তিতে দিয়েছেন। তারা যোগ্যতাকে মূল্যায়ন করেছেন। তাদের পছন্দকে আমি সম্মান করি।’
রাজনৈতিক দলের প্যানেলের প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে নার্গিস খাতুন বলেন, ‘আমি কোনো রাজনীতি করি না। শুধু একটি প্যানেল থেকে প্রার্থী হয়েছি। আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্যও না। ভোট করার জন্যই প্যানেলে যেতে হয়েছে।’
তিনি বলেন, আমি ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলাধুলা ও ক্রীড়া সেক্টরকে এগিয়ে নিতে কাজ করব। আমি আমার শতভাগ চেষ্টা দিয়ে কাজ করব। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।
কে এই নার্গিস
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মচমইল খর্দ্দকৌড় গ্রামের কৃষক আকবর আলীর মেয়ে নার্গিস। তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট। বড় দুই বোন বিবাহিত। নার্গিস রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
নার্গিস খাতুন বলেন, ২০১১ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফুটবল খেলা শুরু করি। ২০১৪ সালে বয়সভিত্তিক অনূর্ধ্ব-১৪ ফুটবল দলে খেলার সুযোগ হয়। এরপর দেশের হয়ে জাতীয় দলের খেলোয়াড় হিসেবে ২০টি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নিই। জাপান, কোরিয়া, চীনসহ ১০টি দেশে বাংলাদেশের হয়ে খেলেছি।
ছাত্রদল প্যানেলে অংশ নিয়ে নার্গিস খাতুন পেয়েছেন সাত হাজার ৭৮৫ ভোট। তাঁর নিকটতম শিবিরসমর্থিত প্যানেলের হামিদুল্লাহ নাঈম পেয়েছেন পাঁচ হাজার ২৩৮ ভোট।



